আদিপর্ব: ২৫। ধৃতরাষ্ট্রের ঈর্ষ্যা
এক বৎসর পরে ধৃতরাষ্ট্র যুধিষ্ঠিরকে যৌবরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত করলেন। ধৈর্য স্থৈর্য অনিষ্ঠুরতা সরলতা প্রভৃতি গুণে যুধিষ্ঠির তাঁর পিতা পাণ্ডুর কীর্তিও অতিক্রম করলেন। বৃকোদর (১) ভীম বলরামের কাছে অসিযুদ্ধ গদাযুদ্ধ ও রথযুদ্ধ শিখতে লাগলেন। অর্জুন নানাবিধ অস্ত্রের প্রয়োগে পটুতা লাভ করলেন। সহদেব সর্বপ্রকার নীতিশাস্ত্রে অভিজ্ঞ হলেন। দ্রোণের শিক্ষার ফলে নকুলও অতিরথ (যিনি অসংখ্য শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারেন) এবং চিত্রযোধী (বিচিত্র যুদ্ধকারী) নামে খ্যাত হলেন। অর্জুন প্রভৃতি পাণ্ডবগণ বহু দেশ জয় করে নিজেদের রাজ্য বিস্তার করলেন।
পাণ্ডবদের বিক্রমের খ্যাতি অতিশয় বৃদ্ধি পাচ্ছে শুনে ধৃতরাষ্ট্রের মন দূষিত হ’ল, দুশ্চিন্তার জন্য তাঁর নিদ্রার ব্যাঘাত হতে লাগল। তিনি মন্ত্রিশ্রেষ্ঠ রাজনীতিজ্ঞ কণিককে বললেন, দ্বিজোত্তম, পাণ্ডবদের খ্যাতি শুনে আমার অসূয়া হচ্ছে, তাদের সঙ্গে সন্ধি বা বিগ্রহ কি কর্ত্তব্য তা বলুন, আমি আপনার উপদেশ পালন করব।
রাজনীতি বিষয়ক বিবিধ উপদেশের প্রসঙ্গে কণিক বললেন, মহারাজ, উপযুক্ত কাল না আসা পৰ্য্যন্ত অমিত্রকে কলসের ন্যায় কাঁধে বইবেন, তার পর সুযোগ এলেই তাকে পাথরের উপর আছড়ে ফেলবেন। যাঁকে দারুণ কর্ম্ম করতে হবে তিনি বিনীত হয়ে হাস্যমুখে কথা বলবেন, কিন্তু হৃদয়ে ক্ষুরধার থাকবেন। মৎস্যজীবী যেমন বিনা অপরাধে মৎস্য হত্যা করে, সেইরূপ পরের মর্ম্মচ্ছেদ ও নিষ্ঠুর কর্ম্ম না করে বিপুল ঐশ্বর্য্যলাভ হয় না। কুরুরাজ, আপনি সকলের শ্রেষ্ঠ; নিজেকে রক্ষা করুন, যেন পাণ্ডবরা আপনার অনিষ্ট না করে; এমন উপায় করুন যাতে শেষে অনুতাপ করতে না হয়।