উদ্যোগপর্ব: ২৮। যুদ্ধযাত্রা
পরদিন প্রভাতকালে দুর্যোধন ভীষ্ম প্রভৃতিকে জিজ্ঞাসা করলেন, ভীমার্জুন-ধৃষ্টদ্যুম্নাদি কর্তৃক রক্ষিত এই বিশাল পাণ্ডববাহিনী আপনারা কত কালে বিনষ্ট করতে পারেন?
ভীষ্ম বললেন, আমি প্রতিদিন দশ সহস্র সৈন্য এবং এক সহস্র রথীকে বধ করব, তাতে এক মাসে সমস্ত বিনষ্ট হবে। দ্রোণ বললেন, আমি স্থবির হয়েছি, শক্তি ক’মে গেছে, তথাপি আমিও ভীষ্মের ন্যায় এক মাসে পাণ্ডববাহিনী ধ্বংস করতে পারি। কৃপ বললেন, আমি দুই মাসে পারি। অশ্বত্থামা বললেন, আমি দশ দিনে পারি। কর্ণ বললেন, আমি পাঁচ দিনে পারি।
কর্ণের কথায় ভীষ্ম উচ্চ হাস্য ক'রে বললেন, রাধেয়, এখন পর্যন্ত তুমি শঙ্খধনুর্ধ্বাণধারী বাসুদেবসহিত রথারোহী অর্জ্জনের সঙ্গে যুদ্ধে মিলিত হও নি তাই এমন মনে করছ। তুমি যা ইচ্ছা হয় তাই বলতে পার।
যুধিষ্ঠির তাঁর গুপ্তচরদের কাছে কৌরবগণের এই আলোচনার সংবাদ পেলেন। তিনি তাঁর ভ্রাতাদের জানালে অর্জুন বললেন, কৌরবপক্ষের অসার গর্বিত যোদ্ধারা নিজেদের সামর্থ্য সম্বন্ধে যা বলেছেন তা সত্য। কিন্তু আপনি মনস্তাপ দূর করুন, আমি বাসুদেবের সহায়তায় একাকীই নিমেষমধ্যে ত্ৰিলোক সংহার করতে পারি, কারণ কিরাতরূপী পশুপতির প্রদত্ত মহাস্ত্র আমার কাছে আছে। কিন্তু এই দিব্য অস্ত্র দ্বারা যুদ্ধে লোকহত্যা অনুচিত, অতএব আমরা সরল উপায়েই শত্রু জয় করব, পরাক্রান্ত মহারথগণ আমাদের সহায় আছেন।
প্রভাতকালে কৌরবপক্ষীয় রাজগণ স্নানের পর মাল্য ও শুভ্র বসন ধারণ করলেন, তার পর হোম ও স্বস্তিবচন ক'রে দুর্য্যোধনের আদেশে পাণ্ডবগণের অভিমুখে যাত্রা করলেন। দ্রোণাচার্য প্রথম দলের, ভীষ্ম দ্বিতীয় দলের, এবং দুর্য্যোধন তৃতীয় দলের অগ্রণী হয়ে চললেন। কৌরববীরগণ সকলে কুরুক্ষেত্রের পশ্চিম দিকে সমবেত হলেন। যুধিষ্ঠিরের আদেশে পাণ্ডবপক্ষীয় বীরগণও সুসজ্জিত হয়ে যাত্রা করলেন। ধৃষ্টদ্যুম্ন প্রথম সৈন্যদলের, ভীম সাত্যকি ও অর্জুন দ্বিতীয় দলের, এবং বিরাট দ্রুপদ প্রভৃতির সঙ্গে যুধিষ্ঠির তৃতীয় দলের অন্তর্বর্তী হলেন। সহস্র সহস্র অদ্ভুত অদ্ভুত সৈন্য সিংহনাদ এবং ভেরী ও শঙ্খের ধ্বনি করতে করতে পাণ্ডবদের পশ্চাতে গেল।