সৌপ্তিকপর্ব: ২। মহাদেবের আবির্ভাব
শিবিরের দ্বারদেশে এসে অশ্বত্থামা দেখলেন, সেখানে এক মহাকায় চন্দ্র-সূর্যের ন্যায় দীপ্তিমান লোমহর্ষকর পূরুষ দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁর পরিধান রুধিরার্দ্র ব্যাঘ্রচর্ম, উত্তরীয় কৃষ্ণসারমৃগচর্ম, গলদেশে সর্পের উপবীত, হস্তে নানাবিধ অস্ত্র উদ্যত হয়ে আছে। তাঁর দংষ্ট্রাকরাল মুখ, নাসিকা, কর্ণ ও সহস্র নেত্র থেকে অগ্নিশিখা নির্গত হচ্ছে, তার কিরণে শত সহস্র শঙ্খচক্রগদাধর বিষ্ণু আবির্ভূত হচ্ছেন।
অশ্বত্থামা নিঃশঙ্ক হয়ে সেই ভয়ংকর পূরুষের প্রতি বিবিধ দিব্যাস্ত্র নিক্ষেপ করলেন, কিন্তু সেই পূরুষ সমস্ত অস্ত্রই গ্রাস করে ফেললেন। অস্ত্র নিঃশেষ হ’লে অশ্বত্থামা দেখলেন, অসংখ্য বিষ্ণু আবির্ভাবে আকাশ আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। তখন নিরস্ত অশ্বত্থামা কৃপাচার্যের বাক্য স্মরণ করে অনুতপ্ত হলেন এবং রথ থেকে নেমে প্রণত হয়ে শূলপাণি মহাদেবের উদ্দেশ্যে স্তব ক’রে বললেন, হে দেব, যদি আজ এই ঘোর বিপদ থেকে উত্তীর্ণ হতে পারি তবে আপনাকে আমার এই পঞ্চভূতময় শরীর উপহার দেব।
তখন একটি কাঞ্চনময়ী বেদী আবির্ভূত হ’ল এবং তাতে অগ্নি জ্বলতে উঠল। নানারূপধারী বিকটাকার প্রমথগণ উপস্থিত হ’ল। তাদের কেউ ভেরী শঙ্খ মৃদঙ্গ প্রভৃতি বাজাতে লাগল, কেউ নৃত্যগীতে রত হ’ল, কেউ লাফাতে লাগল। সেই অস্ত্রধারী ভূতেরা অশ্বত্থামার তেজের পরীক্ষা এবং সুপ্ত যোদ্ধাদের হত্যা দর্শনের জন্য সর্ব দিকে বিচরণ করতে লাগল।
অশ্বত্থামা কৃতাঞ্জলি হয়ে বললেন, ভগবান, আমি অঙ্গিরার কুলে জাত, আমার শরীর দিয়ে অগ্নিতে হোম করছি, আপনি এই বলি গ্রহণ করুন। এই ব'লে অশ্বত্থামা বেদীতে উঠে জ্বলন্ত অগ্নিতে প্রবেশ করলেন। তিনি ঊর্ধ্ববাহu ও নিশ্চেষ্ট হয়ে আছেন দেখে মহাদেব প্রত্যক্ষ হয়ে সহাস্যে বললেন, কৃষ্ণ অপেক্ষা আমার প্রিয় কেউ নেই, কারণ তিনি সর্বপ্রকারে আমার আরাধনা করেছেন। তাঁর সম্মান এবং তোমার পরীক্ষার জন্য আমি পাঞ্চালগণকে রক্ষা করছি এবং তোমাকে নানাপ্রকার মায়া দেখিয়েছি। কিন্তু পাঞ্চালগণ কালকবলিত হয়েছে, আজ তাদের জীবনান্ত হবে। এই বলে মহাদেব অশ্বত্থামার দেহে আবিষ্ট হলেন এবং তাঁকে একটি নির্মল উত্তম খড়্গ দিলেন। অশ্বত্থামার তেজ বর্ধিত হ'ল, তিনি সমধিক বলশালী হয়ে শিবিরের অভিমুখে গেলেন, প্রমথগণ অদৃশ্য হয়ে তাঁর সঙ্গে চলল।