সভাপর্ব: ১৬। দ্রৌপদীর নিগ্রহ — ভীমের শপথ — ধৃতরাষ্ট্রের বরদান

দুর্যোধন তাঁর এক অনুচরকে বললেন, প্রাতিকামী, তুমি দ্রৌপদীকে এখানে নিয়ে এস, তোমার কোনও ভয় নেই। সূতবংশীয় প্রাতিকামী দ্রৌপদীর কাছে গিয়ে বললে, যাজ্ঞসেনী, যুধিষ্ঠির দ্যূতসভায় ভীমার্জুন-নকুল-সহদেবকে এবং নিজেকে পণ রেখে হেরে গেছেন। আপনাকেও তিনি পণ রেখেছিলেন, দুর্যোধন আপনাকে জয় করেছেন। আপনি আমার সঙ্গে আসুন। দ্রৌপদী বললেন, সূতপুত্র, তুমি দ্যূতকার যুধিষ্ঠিরকে জিজ্ঞাসা করে এস — তিনি আগে নিজেকে না আমাকে হেরেছিলেন?

প্রাতিকামী সভায় এসে দ্রৌপদীর প্রশ্ন জানালে যুধিষ্ঠির প্রাণহীনের ন্যায় বসে রইলেন, কিছুই উত্তর দিলেন না। দুর্যোধন বললেন, পাঞ্চালী নিজেই এখানে এসে প্রশ্ন করুন। প্রাতিকামী আবার গেলে দ্রৌপদী বললেন, তুমি ধর্মাত্মা নীতিমান সদস্যগণকে জিজ্ঞাসা কর, ধর্মানুসারে আমার কর্তব্য কি। তাঁরা যা বলবেন আমি তাই করব। প্রাতিকামী সত্বর ফিরে এসে দ্রৌপদীর প্রশ্ন জানালে সকলে অধোমুখে নীরবে রইলেন। এই সময়ে যুধিষ্ঠির একজন বিশ্বস্ত দূতকে দিয়ে দ্রৌপদীকে বলে পাঠালেন, পাঞ্চালি তুমি এখন রজস্বলা একবস্ত্রা, এই অবস্থাতেই কাঁদতে কাঁদতে সভায় এসে শ্বশুরদের সম্মুখে দাঁড়াও।

দুর্যোধন পুনর্নার প্রাতিকামীকে বললেন, দ্রৌপদীকে নিয়ে এস। প্রাতিকামী ভীত হয়ে বললে, তাঁকে কি বলব? দুর্যোধন বললেন, এই সুতপুত্র ভীমের ভয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছে। দুঃশাসন, তুমি নিজে দ্রৌপদীকে ধরে নিয়ে এস। দুঃশাসন দ্রৌপদীর কাছে গিয়ে বললেন, পাঞ্চালী, তুমি বিজিত হয়েছ, লজ্জা ত্যাগ করে দুর্যোধনের সঙ্গে দেখা কর, কৌরবগণকে ভজনা কর। দ্রৌপদী ব্যাকুল হয়ে বেগে ধৃতরাষ্ট্রের পত্নীদের কাছে চললেন, কিন্তু দুঃশাসন তর্জন করে তাঁর কেশ ধরলেন যে কেশ রাজসূয় যজ্ঞের মন্ত্রপূত জলে সিক্ত হয়েছিল। দুঃশাসনের আকর্ষণে নতদেহ হয়ে দ্রৌপদী বললেন, মন্দবুদ্ধি অনার্য, আমি একবস্ত্রা রজস্বলা, আমাকে সভায় নিয়ে যেয়ো না। দুঃশাসন বললেন, তুমি রজস্বলা একবস্ত্রা বা বিবস্ত্রা যাই হও, দ্যূতে বিজিত হয়ে দাসী হয়েছ, আমাদের ভজনা কর।

বিক্ষিপ্তকেশে অর্ধস্খলিতবসনে দ্রৌপদী সভায় আনীত হলেন। লজ্জায় ও ক্রোধে দগ্ধ হয়ে তিনি ধীরে ধীরে বললেন, দুঃশাসন, ইন্দ্রাদি দেবগণও যদি তোমার সহায় হন তথাপি পাণ্ডবগণ তোমাকে ক্ষমা করবেন না। এই কুরুবংশীয়দের মধ্যে আমাকে টেনে আনা হল কিন্তু কেউ তার নিন্দা করছেন না! ভীষ্ম দ্রোণ বিদুর আর রাজা ধৃতরাষ্ট্রের কি প্রাণ নেই? কুরুবংশগণ এই দারুণ অধর্ম চার দিকে দেখতে পাচ্ছেন না? ধিক্, ভরতবংশের ধর্ম আর চরিত্র নষ্ট হয়েছে, এই সভায় কৌরবগণ কুলধর্মের মর্যাদালঙ্ঘন নীরবে দেখছেন! দ্রৌপদী করুণস্বরে এইরূপে বিলাপ করে অশ্রুনয়নে পতিদের দিকে তাকাচ্ছেন দেখে দুঃশাসন তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সশব্দে হেসে বললেন, দাসী! কর্ণ ও শকুনিও হৃষ্ট হয়ে অট্টহাস্য করলেন, শকুনিও অনুমোদন করলেন।

সভাস্থ আর সকলেই অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। ভীষ্ম বললেন, ভাগ্যবতী, ধর্মের তত্ত্ব অতি সূক্ষ্ম, আমি তোমার প্রশ্নের যথার্থ উত্তর দিতে পারছি না। যুধিষ্ঠির সব ত্যাগ করলেও সত্য ত্যাগ করেন না, তিনিই বলেছেন— আমি বিজিত হয়েছি। দ্যূতক্রীড়ায় শকুনি অদ্বিতীয়, তাঁর জন্যই যুধিষ্ঠিরের খেলবার ইচ্ছা হয়েছিল। শকুনি শঠতা অবলম্বন করেছেন যুধিষ্ঠির এমন মনে করেন না। দ্রৌপদী বললেন, যুধিষ্ঠিরের অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধূর্ত ও শঠ লোকে তাকে এই সভায় আহ্বান করেছে। তাঁর খেলতে ইচ্ছা হয়েছিল কেন বলছেন? তিনি শুদ্ধস্বভাব, প্রথমে শঠতা বুঝতে পারেন নি তাই পরাজিত হয়েছেন, পরে বুঝতে পেরেছেন। এই সভায় কুরুবংশীয়গণ রয়েছেন, এঁরা কন্যা ও পুত্রবধূদের অভিভাবক, সুবিচার করে বলুন আমাকে জয় করা হয়েছে কি না।

দ্রৌপদীর অপমান দেখে ভীম অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে যুধিষ্ঠিরকে বললেন, দ্যূতকাররা তাদের বেশ্যাকেও কখনও পণ রাখে না, তাদের দয়া আছে। শত্রুরা শঠতার দ্বারা ধন রাজ্য এবং আমাদেরও হরণ করেছে, তাতেও আমার ক্রোধ হয় নি, কারণ আপনি এই সমস্তের প্রভু। কিন্তু পাণ্ডবভার্যা দ্রৌপদী এই অপমানের যোগ্য নন, হীন নৃশংস কৌরবগণ আপনার দোষেই তাঁকে ক্লেশ দিচ্ছে। আমি আপনার হস্ত দগ্ধ করব — সহদেব, অগ্নি আন।

অর্জুন ভীমকে শান্ত করলেন। দুর্যোধনের এক ভ্রাতা বিকর্ণ সভাসদ সকলকে বললেন, পাঞ্চালী যা বললেন আপনারা তার উত্তর দিন, যদি সুবিচার না করেন তবে আমাদের সদ্য নরকগতি হবে। কুরুগণের মধ্যে বৃদ্ধতম ভীষ্ম ও ধৃতরাষ্ট্র, মহামতি বিদুর, আচার্য দ্রোণ ও কৃপ, এঁরা দ্রৌপদীর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না কেন? যে সকল রাজারা এখানে আছেন তাঁরাও বলুন। বিকর্ণ এইরূপে বহুবার বললেও কেউ উত্তর দিলেন না। তখন হাতে হাত ঘষে নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে বিকর্ণ বললেন, আপনারা কিছু বলুন বা না বলুন, আমি যা ন্যায় মনে করি তা বলছি। মৃগয়া মদ্যপান অক্ষক্রীড়া এবং অধিক স্ত্রীসংসর্গ — এই চারটি রাজাদের ব্যসন। ব্যসাসক্ত ব্যক্তি ধর্ম থেকে চ্যুত হয়, তার কৃত কর্মকে লোকে অকৃত বলে মনে করে। যুধিষ্ঠির ব্যসাসক্ত হয়ে দ্রৌপদীকে পণ রেখেছিলেন। কিন্তু সকল পাণ্ডবই দ্রৌপদীর স্বামী, আর যুধিষ্ঠির নিজে বিজিত হবার পর দ্রৌপদীকে পণ রেখেছিলেন, অতএব দ্রৌপদী বিজিত হন নি।

সভায় মহা কোলাহল উঠল, অনেকে বিকর্ণের প্রশংসা আর শকুনির নিন্দা করতে লাগলেন। কর্ণ ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, এই সভার সদস্যগণ যে কিছু বলছেন না তার কারণ এঁরা দ্রৌপদীকে বিজিত বলেই মনে করেন। বিকর্ণ, তুমি বালক হয়ে স্থবিরের ন্যায় কথা বলছ। নির্বোধ, তুমি ধর্ম জান না। যুধিষ্ঠির সর্বস্ব পণ করেছিলেন দ্রৌপদী তার অন্তর্গত; তিনি স্পষ্টবাক্যে দ্রৌপদীকেও পণ রেখেছিলেন, পাণ্ডবগণ তাতে আপত্তি করেন নি। আরও শোন — স্ত্রীদের এক পতিই বেদবিহিত, দ্রৌপদীর অনেক পতি, অতএব এ বেশ্যা। শকুনি সমস্ত ধন ও দ্রৌপদী সমেত পঞ্চপাণ্ডবকে জয় করেছেন। দুঃশাসন, তুমি পাণ্ডবদের আর দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণ কর।

পাণ্ডবগণ নিজ নিজ উত্তরীয় বসন ফেলে দিলেন। দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্র ধরে সবলে টেনে নেবার উপক্রম করলেন। লজ্জা থেকে ত্রাণ পাবার জন্য দ্রৌপদী কৃষ্ণ বিষ্ণু হরিকে ডাকতে লাগলেন। তখন স্বয়ং ধর্ম বস্ত্রের রূপ ধরে তাঁকে আবৃত করলেন। দুঃশাসন আকর্ষণ করলে নানা বর্ণে রঞ্জিত এবং শত শত বসন আবির্ভুত হতে লাগল। সভায় তুমুল কোলাহল হল, আশ্চর্য্য ঘটনা দেখে সভাস্থ রাজারা দ্রৌপদীর প্রশংসা আর দুঃশাসনের নিন্দা করতে লাগলেন।

ক্রোধে হস্ত নিষ্পিষ্ট করে কম্পিত ওষ্ঠে ভীম উচ্চস্বরে বললেন, ‘ক্ষত্রিয়গণ, শোন, যদি আমি যুদ্ধক্ষেত্রে এই পাপী দুর্ব্বুদ্ধি ভরতকুলকলঙ্ক দুঃশাসনের বক্ষ বিদীর্ণ করে রক্তপান না করি, তবে যেন পিতৃপিতামহগণের গতি না পাই। ভীমের এই লোমহর্ষকর শপথ শুনে রাজারা তাঁর প্রশংসা এবং দুঃশাসনের নিন্দা করতে লাগলেন। সভায় দ্রৌপদীর বস্ত্র রাশীকৃত হল, দুঃশাসন শ্রান্ত ও লজ্জিত হয়ে বসে পড়লেন। বিদুর বললেন, সদস্যগণ, আপনারা রোরুদ্যমানা দ্রৌপদীর প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন না তাতে ধর্ম্মের হানি হচ্ছে। বিকর্ণ নিজের বুদ্ধি অনুসারে উত্তর দিয়েছে, আপনারাও দিন। সভাস্থ রাজারা উত্তর দিলেন না। কর্ণ দুঃশাসনকে বললেন, এই কৃষ্ণা দাসীকে গৃহে নিয়ে যাও।

দ্রৌপদী বিলাপ করতে লাগলেন। ভীম বললেন, কল্যাণী, আমি তোমাকে বলেছি যে ধর্ম্মের গতি অতি দুর্ব্বোধ সেজন্য আমি উত্তর দিতে পারছি না। কৌরবগণ লোভমোহপরায়ণ হয়েছে, শীঘ্রই এদের বিনাশ হবে। পাঞ্চালী, যুধিষ্ঠিরই বলুন তুমি অজিতা না জিতা। দুর্য্যোধন সহাস্যে বললেন, ভীম অর্জুন প্রভৃতি বলুন যে যুধিষ্ঠির তোমার স্বামী নন, তিনি মিথ্যাবাদী, তা হলে তুমি দাসীত্ব থেকে মুক্ত হবে। অথবা ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির স্বয়ং বলুন তিনি তোমার স্বামী কি অস্বামী। ভীম তাঁর চন্দনচর্চিত বিশাল বাহু তুলে বললেন, ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির যদি আমাদের গুরু না হতেন তবে কখনই ক্ষমা করতাম না। উনি যদি আমাকে নিষ্কৃতি দেন তবে চপেটাঘাতে এই পাপী ধৃতরাষ্ট্রপুত্রগণকে নিষ্পিষ্ট করতে পারি।

অচেতনের ন্যায় নীরব যুধিষ্ঠিরকে দুর্য্যোধন বললেন, ভীমার্জ্জুন প্রভৃতি আপনার আজ্ঞাধীন, আপনিই দ্রৌপদীর প্রশ্নের উত্তর দিন। এই বলে দুর্য্যোধন কর্ণের দিকে চেয়ে একটু হেসে বসন সরিয়ে কদলীকান্ডতুল্য তাঁর বাম উরু দ্রৌপদীকে দেখালেন। বৃকোদর ভীম বিস্ফারিতনয়নে বললেন, নরাধম তোমার ওই উরু যদি গদাঘাতে না ভাঙি তবে যেন আমার পিতৃলোকে গতি না হয়।

বিদুর বললেন, ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রগণ, এই ভীমসেন থেকে তোমাদের মহা- বিপদ হবে তা জেনে রাখ। তোমরা দ্যূতের নিয়ম লঙ্ঘন করেছ, সভায় স্ত্রীলোক এনে বিবাদ করছ। ধর্ম নষ্ট হ’লে সভা দূষিত হয়। যুধিষ্ঠির নিজে বিজিত হবার পূর্বে দ্রৌপদীকে পণ রাখতে পারতেন, কিন্তু প্রভুত্ব হারাবার পর তা পারেন না।

ধৃতরাষ্ট্রের অগ্নিহোত্রগৃহে একটা শৃগাল চিৎকার করে উঠল, গর্দভ ও পক্ষীরাও ভয়ংকর রবে ডাকতে লাগল। অদ্ভুত লক্ষণ শুনে বিদুর গান্ধারী ভীষ্ম দ্রোণ ও কৃপ স্বস্তি স্বস্তি বললেন এবং ধৃতরাষ্ট্রকে জানালেন। তখন ধৃতরাষ্ট্র বললেন, মূর্খ দুর্যোধন, এই কৌরবসভার তুমি পাণ্ডবগণের ধর্মপত্নীর সঙ্গে কথা বলেছ! তুমি মরেছ। তার পর তিনি দ্রৌপদীকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, পাঞ্চালী, তুমি আমার বধূদের মধ্যে শ্রেষ্ঠা এবং ধর্মশীলা সতী, আমার কাছে অভীষ্ট বর চাও।

দ্রৌপদী বললেন, ভারতর্ষভ, এই বর দিন যেন ধর্মচারী যুধিষ্ঠির দাসত্ব থেকে মুক্ত হন, আমার পুত্র প্রতিবিন্ধ্যকে কেউ যেন দাসপুত্র বলে না ডাকে। ধৃতরাষ্ট্র বললেন, কল্যাণী, যা বললে তাই হবে। তুমি দ্বিতীয় বর চাও, আমার মন বলছে একটিমাত্র বর তোমার যোগ্য নয়। দ্রৌপদী বললেন, মহারাজ, ভীমসেন ধনঞ্জয় আর নকুল-সহদেব দাসত্ব থেকে মুক্ত ও স্বাধীন হ’ন। ধৃতরাষ্ট্র বললেন, পুত্ৰী, তাই হবে। দুটি বরও তোমার পক্ষে যথেষ্ট নয়, তৃতীয় বর চাও। দ্রৌপদী বললেন মহারাজ, লোভে ধর্মনাশ হয়, আমি আর বর চাই না। এই বিধান আছে যে বৈশ্য এক বর, ক্ষত্রিয়াণী দুই বর, রাজা তিন বর এবং ব্রাহ্মণ শত বর নিতে পারেন। আমার স্বামীরা দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে পুণ্যকর্মের বলেই শ্রেয়োলাভ করবেন।

কর্ণ বললেন, দ্রৌপদী যা করলেন কোনও নারী তা পূর্বে করেছেন এমন শুনি নি, দুঃখসাগরে নিমগ্ন পাণ্ডবগণকে ইনি নৌকার ন্যায় পার করেছেন। এই কথা শুনে ভীম দুঃখিত হয়ে বললেন, মহর্ষি দেবলের মতে পুরুষের তেজ তিনটি— অপত্য, কর্ম ও বিদ্যা। পত্নীর অপমানে আমাদের সন্তান দূষিত হ’ল। অর্জুন বললেন, হীন লোকে কি বলে না বলে তা নিয়ে সজ্জনরা জল্পনা করেন না, তাঁরা নিজ ক্ষমতায় নির্ভর করেন। ভীম যুধিষ্ঠিরকে বললেন বিতর্কে প্রয়োজন কি, মহারাজ, আমি আজই সমস্ত শত্রুকে বিনাশ করব, তার পর আপনি পৃথিবী শাসন করবেন।

যুধিষ্ঠির ভীমকে নিবৃত্ত করে বসিয়ে দিলেন এবং ধৃতরাষ্ট্রের কাছে গিয়ে কৃতাঞ্জলি হয়ে বললেন, মহারাজ, আমরা সর্বদাই আপনার অধীন, আদেশ করুন এখন কি করব। ধৃতরাষ্ট্র বললেন, অজাতশত্রু, তোমার মঙ্গল হ’ক। সমস্ত ধন সমেত তোমরা নির্ভয়ে ফিরে যাও, নিজ রাজ্য শাসন কর। আমি বৃদ্ধ, তোমাদের হিতকর আদেশই দিচ্ছি। তুমি ধর্মের সূক্ষ্ম গতি জান, তুমি বিনীত, বৃদ্ধদের সেবক। যাঁরা উত্তম পুরুষ তাঁরা কারও লঘুতা করেন না, পরের দোষ না দেখে গুণই দেখেন। এই সভায় তুমি সাধুজনোচিত আচরণ করেছ। বৎস, দুর্যোধনের নিষ্ঠুরতা মনে রেখো না। আমি তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী বৃদ্ধ অন্ধ পিতা, আমাকে আর তোমার মাতা গান্ধারীকে দেখো। তোমাদের দেখবার জন্য এবং এই দুই পক্ষের বলাবল জানবার জন্য আমি দ্যুতসভার মত দিয়েছিলাম। তোমার ন্যায় শাসনকর্তা এবং বিদুরের ন্যায় মন্ত্রী থাকতে কুরুবংশীয়গণের কোনও ভয় নেই। এখন তুমি ইন্দ্রপ্রস্থে যাও, ভ্রাতাদের সঙ্গে তোমার সম্প্রীতি এবং ধর্মে মতি থাকুক।