বনপর্ব: ৯। অর্জ্জুনের দিব্যাস্ত্রসংগ্রহে গমন
কিছুকাল পরে যুধিষ্ঠির অর্জুনকে বললেন, ভীষ্ম দ্রোণ কৃপ কর্ণ ও অশ্বত্থামা—এঁরা সমগ্র ধনুর্বেদে বিশারদ, দুর্যোধন এঁদের সম্মানিত ও সন্তুষ্ট করেছে। সমস্ত পৃথিবীই এখন তার বশে এসেছে। তুমি আমাদের প্রিয়, তোমার উপরেই আমরা নির্ভর করি। বৎস, আমি ব্যাসদেবের নিকট একটি মন্ত্র লাভ করেছি, তুমি তা শিখে নিয়ে উত্তর দিকে গিয়ে কঠোর তপস্যা কর। সমস্ত দিব্যাস্ত্র ইন্দ্রের কাছে আছে, তুমি তাঁর শরণাপন্ন হয়ে সেই সকল অস্ত্র লাভ কর।
স্বস্ত্যয়নের পর অর্জ্জুন সশস্ত্র হয়ে যাত্রার উদ্যোগ করলেন। দ্রৌপদী তাঁকে বললেন, পার্থ, আমাদের সুখ দুঃখ জীবন মরণ রাজ্য ঐশ্বর্য সবই তোমার উপর নির্ভর করছে। তোমার মঙ্গল হ’ক, বলবানূদের সঙ্গে তুমি বিরোধ করো না। জয়লাভের জন্য যাত্রা কর, ধাতা ও বিধাতা তোমাকে কুশলে নীরোগে রাখুন।
অর্জ্জুন হিমালয় ও গন্ধমাদন পার হয়ে ইন্দ্রকীল পর্বতে উপস্থিত হলেন। সেখানে তিনি আকাশবাণী শুনলেন — তিষ্ঠ। অর্জ্জুন দেখলেন, পিঙ্গলবর্ণ কৃশকায় জটাধারী এক তপস্বী বৃক্ষমূলে ব’সে আছেন। তিনি বললেন, বৎস, তুমি কে? অস্ত্রধারী হয়ে কেন এখানে এসেছ? এই শান্ত তপোবনে অস্ত্রের প্রয়োজন নেই, তুমি ধনু ত্যাগ কর, তপস্যার প্রভাবে তুমি পরমগতি পেয়েছ। অর্জ্জুনকে অবিচলিত দেখে তপস্বী সহাস্যে বললেন, আমি ইন্দ্র, তোমার মঙ্গল হ’ক, তুমি অভীষ্ট স্বর্গ প্রার্থনা কর। অর্জ্জুন কৃতাঞ্জলি হয়ে বললেন, ভগবান, আমাকে সর্ববিধ অস্ত্র দান করুন, আর কিছুই আমি চাই না। যদি আমার ভ্রাতাদের বনে ফেলে রাখি এবং শত্রুর উপর প্রতিশোধ নিতে না পারি তবে আমার অকীত্তি সর্বত্র চিরস্থায়ী হবে। তখন ইন্দ্র বললেন, বৎস, তুমি যখন ভূতনাথ ত্রিলোচন শূলধর শিবের দর্শন পাবে তখন সমস্ত দিব্য অস্ত্র তোমাকে দেব। এই ব’লে ইন্দ্র অদৃশ্য হলেন।