উদ্যোগপর্ব: ১০। কৃষ্ণ, যুধিষ্ঠিরাদি ও দ্রৌপদীর অভিমত
সঞ্জয় হস্তিনাপুরে চলে গেলে যুধিষ্ঠির কৃষ্ণকে বললেন, তুমি ভিন্ন আর কেউ নেই যিনি আমাদের বিপদ থেকে ত্রাণ করতে পারেন। ধৃতরাষ্ট্র আর দুর্যোধনের অভিপ্রায় কি তা তুমি সঞ্জয়ের কথায় জেনেছ। লুব্ধ ধৃতরাষ্ট্র আমাদের রাজ্য ফিরিয়ে না দিয়েই শান্তি কামনা করছেন, তিনি স্বধর্ম দেখছেন না, স্নেহের বশে মূর্খ পুত্রের মতো চলছেন। জনার্দন, আমি আমার মাতা ও মিত্রগণকে পালন করতে পারছি না এর চেয়ে দুঃখ আর কি আছে? দ্রুপদ বিরাট প্রভৃতি রাজগণ এবং তুমি সহায় থাকতেও আমি শুধু পাঁচটি গ্রাম চেয়েছিলাম, কিন্তু দুরাত্মা দুর্যোধন তাও দেবে না। ধনশালী লোক ধনহীন হলে যত দুঃখ পায়, স্বভাবত নির্ধন লোক তত দুঃখ পায় না। আমরা কিছুতেই পৈতৃক সম্পত্তি ত্যাগ করতে পারি না, উদ্ধারের চেষ্টায় যদি আমাদের মৃত্যু হয় তাও ভাল। যুদ্ধ বিপজ্জনক, তাতে দুই পক্ষেরই ক্ষতি হয়; যাঁরা সজ্জন ধীর ও দয়ালু তাঁরাই যুদ্ধে মরেন, নিকৃষ্ট লোকেই বেঁচে থাকে। বৈর দ্বারা বৈরের নিবৃত্তি হয় না, বরং বৃদ্ধি হয়, যেমন ঘৃতযোগে অগ্নির হয়। আমরা রাজ্য ত্যাগ করতে চাই না, কুলক্ষয়ও চাই না। আমরা সর্বতোভাবে সন্ধির চেষ্টা করব, তা যদি বিফল হয় তবেই যুদ্ধ করব। কুকুর প্রথমে লাঙ্গুল চালনা, তার পর গর্জন, তার পর দন্তপ্রকাশ, তার পর যুদ্ধ করে, তাদের মধ্যে যে বলবান সেই মাংস ভক্ষণ করে। মানুষেরও এই স্বভাব, কোনও প্রভেদ নেই। মাধব, এখন কি করা উচিত? যাতে আমাদের স্বার্থ ও ধর্ম দুই রক্ষা হয় এমন উপায় তুমি বল, তোমার তুল্য সুহৃৎ আমাদের কেউ নেই।
কৃষ্ণ বললেন, মহারাজ, আপনাদের দুই পক্ষের হিতার্থে আমি কৌরবসভায় যাব, যদি আপনাদের স্বার্থহানি না করে শান্তি স্থাপন করতে পারি তবে আমার মহাপুণ্য হবে। যুধিষ্ঠির বললেন, তুমি কৌরবদের কাছে যাবে এ আমার মত নয়। দুর্যোধন তোমার কথা রাখবে না, সে যদি তোমার প্রতি দুর্ব্যবহার করে তবে তা আমাদের অত্যন্ত দুঃখকর হবে। কৃষ্ণ বললেন, দুর্যোধন পাপমতি তা আমি জানি, কিন্তু আমি যদি সন্ধির জন্য তাঁর কাছে যাই তবে অন্য লাভ না হলেও লোকে আমাদের যুদ্ধপ্রিয় বলে দোষ দেবে না, কৌরবগণ আমাকে রুদ্ধ করতেও সাহস করবেন না।
যুধিষ্ঠির বললেন, কৃষ্ণ, তোমার যা অভিরুচি তাই কর, তুমি কৃতকার্য্য হয়ে নিরাপদে ফিরে এস। তুমি কথা বলতে জান, যে বাক্য ধর্ম্মসংগত ও আমাদের হিতকর তা মৃদু বা কঠোর যাই হোক তুমি বলবে।
কৃষ্ণ বললেন, আপনার বুদ্ধি ধর্ম্মাশ্রিত, কিন্তু কৌরবগণ শত্রুতা করতে চান। যুদ্ধ না করে যা পাওয়া যাবে তাই আপনি যথেষ্ট মনে করেন। কিন্তু যুদ্ধে জয়ী হওয়া বা হত হওয়াই ক্ষত্রিয়ের সনাতন ধর্ম্ম, দুর্ব্বলতা তাঁর পক্ষে প্রশংসনীয় নয়। ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রগণ সন্ধি করবেন এমন সম্ভাবনা নেই, ভীষ্মদ্রোণাদির ভরসায় তাঁরা নিজেদের প্রবল মনে করেন, আপনি মৃদুভাবে অনুরোধ করলে তাঁরা শুনবেন না। আমি কৌরবসভার গিয়ে আপনার গুণ আর দুর্য্যোধনের দোষ দুইই বলব, সকলের সমক্ষে দুর্য্যোধনের নিন্দা করব। কিন্তু আমি যুদ্ধেরই আশঙ্কা করছি, বিবিধ দুর্লক্ষণ দেখছি, অতএব আপনি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হ’ন।
ভীম বললেন, মধুসূদন, তুমি এমনভাবে কথা ব’লো যাতে শান্তি হয়, যুদ্ধের ভয় দেখিও না। দুর্য্যোধন অসহিষ্ণু ক্রোধী, কিসে ভাল হয় তা বোঝে না তাকে মিষ্ট বাক্য ব’লো। আমরা বরং হীনতা স্বীকার করব, কিন্তু ভরতবংশ যেন বিনষ্ট না হয়। তুমি পিতামহ ভীষ্ম ও সভাসদগণকে ব’লো, তাঁদের যত্নে যেন দুর্য্যোধন শান্ত হয়, উভয় পক্ষের মধ্যে সৌভ্রাত্র স্থাপিত হয়। আমি শান্তির জন্যই বলছি, ধর্ম্মরাজও শান্তির প্রশংসা করেন; অর্জ্জুন দয়ালু, তিনিও যুদ্ধার্থী নন।
কৃষ্ণ সহাস্যে বললেন, ভীমসেন, ধার্ত্তরাষ্ট্রদের বধ করবার ইচ্ছায় তুমি অন্য সময়ে যুদ্ধের প্রশংসাই করে থাক। তুমি নিদ্রা যাও না, উপুড় হয়ে শোও, সর্ব্বদাই অসংগত বাক্য বল, অকারণে হাস বা কাঁদ, দুই জানুর মধ্যে মাথা রেখে দীর্ঘকাল চক্ষু মুদে থাক এবং প্রায়ই ভ্রূকুটি ও ওষ্ঠদংশন কর। ক্রোধের জন্যই এমন কর। তুমি বলেছিলে, ‘পূর্ব্বদিকে সূর্য্যোদয় এবং পশ্চিম দিকে সূর্য্যাস্ত যেমন ধ্রুব সত্য, আমি গদাঘাতে দুর্য্যোধনকে বধ করব এও সেরূপ সত্য।’ তুমি ভ্রাতাদের কাছে গদা স্পর্শ করে এই শপথ করেছ, অথচ আজ তুমি শান্তিকামী হয়েছ। কি আশ্চর্য্য, যুদ্ধকাল উপস্থিত হলে যুদ্ধকামীদেরও চিত্ত বিমুগ্ধ হয়, তুমিও ভয় পেয়েছ! পর্ব্বতের বিচলন যেমন আশ্চর্য্য তোমার কথাও সেইরূপ। ভরতবংশধর, তোমার কুলগৌরব স্মরণ কর, উৎসাহী হও, অবসাদ ত্যাগ কর। অরিন্দম, এই গ্লানি তোমার অযোগ্য, ক্ষত্রিয় নিজের বীর্য্যে যা লাভ করে না তা ভোগও করে না।
কোপনস্বভাব ভীম উত্তম অশ্বের ন্যায় কিঞ্চিৎ ধাবিত হয়ে বললেন, কৃষ্ণ... আমার উদ্দেশ্য না বুঝেই তুমি অন্যরূপ মনে করছ। তুমি দীর্ঘকাল আমার সঙ্গে বাস করেছ সেজন্য আমার স্বভাব তোমার জানা উচিত; অথবা অগাধ জলে যে ভাসে সে যেমন জলের পরিমাণ বোঝে না তেমনই তুমিও আমাকে বোঝ না। মাধব, তুমি অন্যায় বাক্যে আমাকে ভর্ৎসনা করেছ, আর কেউ এমন করতে সাহস করে না। আত্মপ্রশংসা নীচ লোকের কর্ম্ম, কিন্তু তোমার তিরস্কারে তাড়িত হয়ে আমি নিজের বলের কথা বলছি। — এই অন্তরীক্ষ ও এই জগৎ যদি সহসা ক্রুদ্ধ হয়ে দুই শিলাখণ্ডের ন্যায় ধাবিত হয় তবে আমি দুই বাহু দিয়ে তাদের রোধ করতে পারি। সমস্ত পাণ্ডবশত্রুকে আমি ভূতলে ফেলে পা দিয়ে মর্দ্দন করব। জনার্দন, যখন ঘোর যুদ্ধ উপস্থিত হবে তখন তুমি আমাকে জানতে পারবে। আমার দেহ অবসন্ন হয় না, মন কম্পিত হয় না, সর্বলোক ক্রুদ্ধ হলেও আমি ভয় পাই না। সৌহার্দ্য ও ভরতবংশের রক্ষার জন্যই আমি শান্তির কথা বলেছি।
কৃষ্ণ বললেন, তোমার মনোভাব জানবার জন্য আমি প্রণয়বশেই বলেছি, �Error: timed out waiting for response �্ডিত্যপ্রকাশের জন্য নয়। তোমার মাহাত্ম্য বল ও কীর্ত্তি আমি জানি। তুমি ক্লীবের ন্যায় কথা বলছিলে সেজন্য শঙ্কিত হয়ে আমি তোমার তেজ উদ্দীপিত করেছি।
অর্জ্জুন বললেন, জনার্দন, আমার যা বলবার ছিল তা যুধিষ্ঠিরই বলেছেন। তুমি মনে করছ যে ধৃতরাষ্ট্রের লোভ এবং আমাদের বর্তমান দুরবস্থার জন্য শান্তিস্থাপন সুসাধ্য হবে না। সম্যক যত্ন করলে কর্ম্ম নিশ্চয়ই সফল হয়। তুমি আমাদের হিতার্থে যা করতে যাচ্ছ তা মৃদু বা কঠোর কি ভাবে সম্পন্ন হবে তা অনিশ্চিত। তুমি যদি মনে কর যে ওদের বধ করাই উচিত তবে অবিলম্বে আমাদের সেই উপদেশই দিও, আর বিচার কোরো না।
কৃষ্ণ বললেন, তুমি যা বললে আমি তাই করব, কিন্তু দৈব অনুকূল না হ’লে কেবল পুরুষকারে কর্ম্ম সম্পন্ন হয় না। ধৰ্ম্মরাজ পাঁচটি গ্রাম চেয়েছেন, কিন্তু দুর্য্যোধনকে তা বলা উচিত নয়, সেই পাপাত্মা তাতেও সম্মত হবে না। বাক্য ও কর্ম্ম দ্বারা যা সাধ্য তা আমি করব, কিন্তু শান্তির আশা করি না।
নকুল বললেন, মাধব, ধৰ্ম্মরাজ ভীমসেন ও অর্জ্জুনের মত তুমি শুনেছ; সে সমস্ত অতিক্রম ক’রে তুমি যা কালোচিত মনে কর তাই করবে। মানুষের মতের স্থিরতা নেই, বনবাসকালে আমাদের একপ্রকার মত ছিল, অজ্ঞাতবাসকালে অন্যপ্রকার হয়েছিল, এখন আবার অন্যপ্রকার হয়েছে। তোমার প্রসাদে আমাদের কাছে সাত অক্ষৌহিণী সেনা সমাগত হয়েছে, এদের দেখলে কে ভীত হবে না? তুমি কৌরব- সভায় গিয়ে প্রথমে মৃদু বাক্য বলবে, তার পর ভয় দেখাবে। তোমার কথা শুনে ভীষ্ম দ্রোণ বিদুর ও বাহ্লীকরাজ অবশ্যই বুঝবেন কিসে সকলের শ্রেয় হবে এবং তাঁরা ধৃতরাষ্ট্র ও দুর্যোধনকেও বোঝাতে পারবেন।
সহদেব বললেন, কৃষ্ণ, ধর্মরাজ যা বলেছেন তা সনাতন ধর্ম বটে, কিন্তু যাতে যুদ্ধ হয় তুমি তাই করবে, কৌরবরা শান্তি চাইলেও তুমি যুদ্ধ ঘটাবে। দ্যূতসভায় পাঞ্চালীর নিগ্রহের পর যদি দুর্যোধন নিহত না হয় তবে আমার ক্রোধ কি করে শান্ত হবে? ধর্মরাজ আর ভীমার্জুন যদি ধর্ম নিয়েই থাকেন তবে আমি ধর্ম ত্যাগ করে যুদ্ধ করব। মূর্খ দুর্যোধনকে তুমি বলো, আমরা হয় বনবাসের কষ্টভোগ করব নতুবা হস্তিনাপুরে রাজত্ব করব।
সাত্যকি বললেন, মহামতি সহদেব সত্য বলেছেন, দুর্যোধন হত হলেই আমার ক্রোধের শান্তি হবে। রণকর্কশ বীর সহদেবের যে মত, সকল যোদ্ধারই সেই মত। সাত্যকির কথা শুনে যোদ্ধারা চারিদিক থেকে সিংহনাদ করে উঠলেন এবং সকলেই সাধু সাধু বললেন।
অশ্রুপূর্ণনয়নে দ্রৌপদী বললেন, মধুসূদন, তুমি জান যে দুর্যোধন শঠতা করে পাণ্ডবগণকে রাজ্যচ্যুত করেছে, ধৃতরাষ্ট্রের অভিপ্রায়ও সঞ্জয়ের মুখে শুনেছ। যুধিষ্ঠির পাঁচটি গ্রাম চেয়েছিলেন, দুর্যোধন সে অনুরোধ গ্রাহ্য করে নি। রাজ্য না দিয়ে সে যদি সন্ধি করতে চায় তবে তুমি সম্মত হয়ো না, পাণ্ডবগণ তাঁদের মিত্রদের সঙ্গে মিলিত হয়ে দুর্যোধনের সৈন্য বিনাশ করতে পারবেন। তুমি কৃপা কোরো না, সাম বা দান নীতিতে যে শত্রু শান্ত হয় না তার উপর দণ্ডপ্রয়োগই বিধেয়। এই কার্য পাণ্ডবদের কর্তব্য, তোমার পক্ষে যশস্কর, ক্ষত্রিয়েরও সুখকর। ধর্মজ্ঞরা জানেন, অবধ্যকে বধ করলে যে দোষ হয় বধ্যকে বধ না করলে সেই দোষ হয়। জনার্দন, যজ্ঞবেদী থেকে আমার উৎপত্তি, আমি দ্রুপদরাজের কন্যা, ধৃষ্টদ্যুম্নের ভগিনী, তোমার প্রিয়সখী, মহাত্মা পাণ্ডুর পুত্রবধূ, পঞ্চ ইন্দ্রতুল্য পঞ্চ পাণ্ডবের মহিষী; আমার মহারথ পঞ্চ পুত্র তোমার কাছে অভিমন্যুরই সমান। কেশব, তোমরা জীবিত থাকতে আমি দ্যূতসভায় পাণ্ডবদের সমক্ষেই নিগৃহীত হয়েছি, এদের নিশ্চেষ্ট দেখে আমি ‘গোবিন্দ রক্ষা কর’ বলে তোমাকে স্মরণ করেছি। অবশেষে ধৃতরাষ্ট্রের বরে এরা দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে বনবাসে যাত্রা করেন। ধিক অর্জুনের ধনুর্ধারণ, ধিক ভীমসেনের বল, দুর্যোধন মুহূর্তকালও জীবিত আছে!
তার পর অসিতনয়না কৃষ্ণা তাঁর সুবাসিত সুন্দর বক্রাগ্র মহাভুজগসদৃশ বেণী বাম হস্তে ধরে কৃষ্ণের কাছে গিয়ে বললেন, পুণ্ডরীকাক্ষ, তুমি যখন সন্ধির কথা বলবে তখন আমার এই বেণী স্মরণ করো — যা দুঃশাসন হাত দিয়ে টেনেছিল। ভীমার্জুন যদি সন্ধি কামনা করেন তবে আমার বৃদ্ধ পিতা ও তাঁর মহারথ পুত্রগণ কৌরবদের সঙ্গে যুদ্ধ করবেন, অভিমন্যুকে অগ্রবর্তী ক’রে আমার পাঁচ বীর পুত্র যুদ্ধ করবে, দুঃশাসনের শ্যামবর্ণ বাহু যদি ছিন্ন ও ধূলিলুণ্ঠিত না দেখি তবে আমার হৃদয় কি ক’রে শান্ত হবে? প্রদীপ্ত অগ্নির ন্যায় ক্রোধ নিরুদ্ধ রেখে আমি তের বৎসর কাটিয়েছি, এখন ধর্মভীরু ভীমের শান্ত বাক্য শুনে আমার হৃদয় বিদীর্ণ হচ্ছে। এই বলে দ্রৌপদী অশ্রুধারায় বক্ষ সিক্ত ক’রে কম্পিতদেহে গদ্গদকণ্ঠে রোদন করতে লাগলেন।
কৃষ্ণ বললেন, ভাবিনী, যাদের উপর তুমি ক্রুদ্ধ হয়েছ সেই কৌরবগণ সসৈন্যে সবান্ধবে বিনষ্ট হবে, তাদের ভার্যারা রোদন করবে। ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রগণ যদি আমার কথা না শোনে তবে তারা নিহত হয়ে ভূমিতে পড়ে শৃগালকুক্কুরের খাদ্য হবে। হিমালয় যদি বিচলিত হয়, মেদিনী যদি শতধা বিদীর্ণ হয়, নক্ষত্রসমেত আকাশ যদি পতিত হয়, তথাপি আমার কথা ব্যর্থ হবে না। কৃষ্ণা, অশ্রুসংবরণ কর, তুমি শীঘ্রই দেখতে পাবে তোমার পতিগণ শত্রুবধ ক’রে রাজ্যশ্রী লাভ করেছেন।