সৌপ্তিকপর্ব: ৪। দুর্য্যোধনের মৃত্যু

অশ্বত্থামা প্রভৃতি দুর্য্যোধনের কাছে এসে দেখলেন, তখনও তিনি জীবিত আছেন, অচেতন হয়ে রুধির বমন করছেন, এবং অতি কষ্টে মাংসাশী শ্বাপদগণকে তাড়াচ্ছেন। অশ্বত্থামা করুণ বিলাপ ক'রে বললেন, পুরুষশ্রেষ্ঠ দুর্য্যোধন, তোমার জন্য শোক করি না, তোমার পিতামাতার জন্যই শোক করছি, তাঁরা এখন পিঞ্জরস্থের ন্যায় বিচরণ করবেন। গান্ধারীপুত্র, তুমি ধন্য, শত্রুর সম্মুখীন হয়ে ধর্মানুসারে যুদ্ধ করে তুমি নিহত হয়েছ। কৃপাচার্য কৃতবর্মা আর আমাকে ধিক, আমরা তোমাকে অগ্রবর্তী ক'রে স্বর্গে যেতে পারছি না। মহারাজ, তোমার প্রসাদে পিতার ও কৃপের কাছে প্রচুর ধনরত্ন আছে, আমরা বহু যজ্ঞ করেছি, প্রচুর দক্ষিণাও দিয়েছি। তুমি চ'লে যাচ্ছ, পাপী আমরা কিপ্রকারে জীবনধারণ করব? তুমি স্বর্গে গিয়ে দ্রোণাচার্যকে জানিও যে আজ আমি ধৃষ্টদ্যুম্নকে বধ করেছি। তুমি আমাদের হয়ে বাহ্লীকরাজ, জয়দ্ৰথ, সোমদত্ত, ভূরিশ্ৰবা, ভগদত্ত প্রভৃতিকে আলিঙ্গন ক'রে কুশলজিজ্ঞাসা ক'রো। দুৰ্য্যোধন, সুসংবাদ শোন — শত্রুপক্ষে কেবল পঞ্চ-পাণ্ডব, কৃষ্ণ ও সাত্যকি এই সাত জন অবশিষ্ট আছেন; আমাদের পক্ষে কৃপাচাৰ্য্য, কৃতবৰ্ম্মা আর আমি আছি। দ্ৰৌপদীর পঞ্চপুত্ৰ, ধৃষ্টদ্যুম্নের পুত্ৰগণ, এবং সমস্ত পাঞ্চাল ও মৎস্যদেশীয় যোদ্ধা নিহত হয়েছে, হস্তী অশ্ব প্রভৃতির সহিত পাণ্ডব-শিবিরও ধ্বংস হয়েছে।

প্ৰিয়সংবাদ শুনে দুৰ্য্যোধন চেতনলাভ ক'রে বললেন, আচাৰ্য্যপুত্ৰ, তুমি কৃপাচাৰ্য্য ও কৃতবৰ্ম্মার সঙ্গে মিলিত হয়ে যা করেছ, ভীষ্ম-দ্ৰোণ-কৰ্ণও তা পারেন নি। আজ আমি নিজেকে ইন্দ্রের সমান মনে করছি। তোমাদের মঙ্গল হ'ক, স্বৰ্গে আমাদের মিলন হবে। এই ব'লে কুরুরাজ দুৰ্য্যোধন প্ৰাণত্যাগ ক'রে পুণ্যময় স্বৰ্গলোকে প্ৰস্থান করলেন, তাঁর দেহ ভূতলে পড়ে রইল।