অনুশাসনপর্ব: ৮। ব্রাহ্মণসেবা — সংপাত ও অসংপাত

যুধিষ্ঠির বললেন, ‘পিতামহ, রাজাদের পক্ষে কোন্ কার্য সর্বাপেক্ষা ফলপ্রদ? ভীষ্ম বললেন, ব্রাহ্মণসেবাই রাজার শ্রেষ্ঠ কার্য। একদিন ইন্দ্র জটাধারী ও চর্মাম্বরত হয়ে ছদ্মবেশে অসুররাজ শম্বরের কাছে এসে বললেন, তুমি কি-রূপ আচরণের ফলে স্বজাতীয়গণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছ? শম্বর বললেন, আমি ব্রাহ্মণদের ঈর্ষা করি না, তাঁদের শাস্ত্রীয় কথা মনোযোগ দিয়ে শুনি, তাঁদের মতেই চলি। আমি ব্রাহ্মণদের নিকট অপরাধী হই না, সর্বদা তাঁদের পূজা করি। মধুমক্ষিকা যেমন চক্রমধ্যে মধূন্নিবেশ করে, তাঁরা সেইরূপ আমাকে সদুপদেশে তৃপ্ত করেন। তাঁরা যা বলেন সমস্তই আমি মেধা দ্বারা গ্রহণ করি। এই কারণেই আমি তারাগণের মধ্যে চন্দ্রের ন্যায় অসুরগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ গণ্য হই।

যুধিষ্ঠির বললেন, অপরিচিত, দীর্ঘকাল আশ্রিত, এবং দূরদেশ হতে অভ্যাগত, এই ত্রিবিধ মানুষের মধ্যে কাকে সৎপাত্র মনে করা উচিত? কাকে দান করলে উত্তম ফল হয়? ভীষ্ম বললেন, তুমি যে ত্রিবিধ মানুষের কথা বললে তাঁরা সকলেই সৎপাত্র, তাঁদের কেউ গৃহস্থ, কেউ সন্ন্যাসী। তাঁদের সকলেরই প্রার্থনা পূরণ করা কর্তব্য, কিন্তু ভৃত্যদের পীড়ন করে দান করা অনুচিত। ঋত্বিক পুরোহিত আচার্য শিষ্য কুটুম্ব বান্ধব যদি শাস্ত্রজ্ঞ ও অসূয়াশূন্য হন তবে সকলেই দানের যোগ্য পাত্র। সাবধানে পরীক্ষার পর দান করা উচিত। যাঁর অক্রোধ সত্যানিষ্ঠা অহিংসা তপস্যা সরলতা অনভিমান লজ্জা সহিষ্ণুতা জিতেন্দ্রিয়তা ও মনঃসংযম আছে এবং যিনি অকার্য করেন না তিনিই সম্মানের পাত্র। যে বেদ ও ৩৯ শাস্ত্র মানে না এবং সর্ববিষয়ে নিয়মহীন সে অসৎপাত্র। যে ব্রাহ্মণ পণ্ডিতাভিমানী ও বেদনিন্দক, নিরর্থক তর্কবিদ্যার অনুরত, সভায় হেতুবাদ দ্বারা জয়ী হ’তে চায়, যে কটুভাষী বহুবক্তা ও মূঢ়, তাকে কুক্কুরের ন্যায় অস্পৃশ্য জ্ঞান করা উচিত।