মহাপ্রস্থানিকপর্ব: ২। দ্রৌপদী সহদেব নকুল অর্জ্জুন ও ভীমের মৃত্যু

পাণ্ডবগণ হিমালয় পার হয়ে বালুকার্ণব ও মেরুপৰ্বত দর্শন করে যোগযুক্ত হয়ে শীঘ্র চলতে লাগলেন। যেতে যেতে সহসা দ্রৌপদী যোগভ্রষ্ট হয়ে ভূপতিত হলেন। ভীম যুধিষ্ঠিরকে বললেন, দ্রুপদনন্দিনী কৃষ্ণা কোনও অধর্মাচরণ করেন নি, তবে কেন ভূপাতিত হলেন? যুধিষ্ঠির বললেন, ধনঞ্জয়ের উপর এর বিশেষ পক্ষপাত ছিল, এখন তারই ফল পেয়েছেন। এই বলে যুধিষ্ঠির সমাহিতমনে চলতে লাগলেন, দ্রৌপদীর দিকে আর দৃষ্টিপাত করলেন না।

কিছুক্ষণ পরে সহদেব পড়ে গেলেন। ভীম বললেন, এই মাদ্রীপুত্র নিরহঙ্কার ছিলেন এবং সর্বদা আমাদের সেবা করতেন, তবে ভূপাতিত হলেন কেন? যুধিষ্ঠির বললেন, সহদেব মনে করতেন তাঁর চেয়ে বিজ্ঞ আর কেউ নেই। এই বলে যুধিষ্ঠির অগ্রসর হলেন।

তার পর নকুল পড়ে গেলেন। ভীম বললেন, আমাদের এই অতুলনীয় রূপবান ভ্রাতা ধর্ম থেকে কখনও চ্যুত হন নি এবং সর্বদা আমাদের আজ্ঞাবহ ছিলেন; ইনি ভূপাতিত হলেন কেন? যুধিষ্ঠির বললেন, নকুল মনে করতেন তাঁর তুল্য রূপবান কেউ নেই। বৃকোদর, তুমি আমার সঙ্গে এস, নকুল তাঁর কর্মের বিধাননির্দিষ্ট ফল পেয়েছেন।

দ্রৌপদী ও নকুল-সহদেবের পরিণাম দেখে অর্জুন শোকার্ত হয়ে চলেছিলেন, কিছু দূর গিয়ে তিনিও পড়ে গেলেন। ভীম বললেন, ইনি পরিহাস করেও কখনও মিথ্যা বলেন নি, তবে কেন এর এমন দশা হল? যুধিষ্ঠির বললেন, অর্জুন সর্বদা গর্ব করতেন যে এক দিনেই সকল শত্রু বিনাশ করবেন, কিন্তু তা পারেন নি; তা ছাড়া ইনি অন্য ধনুর্দ্ধরদের অবজ্ঞা করতেন; ঐশ্বর্য্যকামী পুরুষের এমন করা উচিত নয়। এই বলে যুধিষ্ঠির চলতে লাগলেন।

অনন্তর ভীম ভূপতিত হয়ে বললেন, মহারাজ মহারাজ, দেখুন, আমিও পড়ে গেছি; আমি আপনার প্রিয়, তবে আমার পতন হ’ল কেন? যুধিষ্ঠির বললেন, তুমি অত্যন্ত ভোজন করতে এবং অন্যের বল না জেনেই নিজ বলের গর্ব করতে। এই বলে যুধিষ্ঠির ভীমের প্রতি দৃষ্টিপাত না ক’রে অগ্রসর হলেন। কুকুর তাঁর পিছনে চলল।