স্বর্গারোহণপর্ব: ৩। মহাভারত-মাহাত্ম্য

নৈমিষারণ্যের দ্বিজগণকে সৌতি বলিলেন, আপনাদের আদেশে আমি পবিত্র মহাভারতকথা কীর্তন করেছি। ভগবান কৃষ্ণদ্বৈপায়ন-রচিত এই ইতিহাস তাঁর শিষ্য বৈশম্পায়ন কর্তৃক জনমেজয়ের সর্পযজ্ঞে কথিত হয়েছিল। যিনি পর্বে পর্বে এই গ্রন্থ পাঠ ক’রে শোনান তিনি পাপমুক্ত হয়ে ব্রহ্মলাভ করেন। যিনি সমাহিত হয়ে এই বেদতুল্য সমগ্র মহাভারত শোনেন তিনি ব্রহ্মহত্যাদি কোটি কোটি পাপ থেকে মুক্ত হন। যিনি শ্রাদ্ধকালে এর কিছু অংশও ব্রাহ্মণদের শোনান তাঁর পিতৃগণ অক্ষয় অন্ন ও পানীয় লাভ করেন। ভারতবংশীয়গণের মহৎ জন্মকথা এতে বর্ণিত হয়েছে এই কারণে এবং মহত্ত্ব ও ভারবত্ত্বের জন্য একে মহাভারত বলা হয়। অষ্টাদশ পুরাণ, সমস্ত ধর্মশাস্ত্র ও বেদ-বেদাঙ্গ এক দিকে, এবং কেবল মহাভারত আর এক দিকে। পুরাণপ্রণেতা এবং বেদসমূদ্রের মন্থনকর্তা ব্যাস ঋষির সিংহনাদ এই মহাভারত; তিন বৎসরে তিনি এই গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। ধর্ম অর্থ কাম ও মোক্ষ এই চতুর্বর্গ এতে বর্ণিত হয়েছে। যা মহাভারতে আছে তা অন্যত্র থাকতে পারে, যা এতে নেই তা আর কোথাও নেই। জয়-নামক এই ইতিহাস মোক্ষার্থী ব্রাহ্মণ ও রাজাদের শোনা উচিত। মহাভারত শুনলে স্বর্গকামীর স্বর্গ, জয়কামীর জয়, এবং গর্ভিণীর পুত্র বা বহুভাগ্যবতী কন্যা লাভ হয়। সমুদ্র ও হিমালয় যেমন রত্ননিধি নামে খ্যাত, মহাভারতও সেইরূপ। যাঁর গৃহে এই গ্রন্থ থাকে, জয় তাঁর হস্তগত। বেদে রামায়ণে ও মহাভারতে আদি অন্ত ও মধ্যে সর্বত্র হরিকথা কীর্তিত হয়েছে। সূর্যোদয়ে যেমন তমোরাশি বিনষ্ট হয়, মহাভারত শুনলে সেইরূপ কায়িক বাচিক ও মানসিক সমস্ত পাপ দূর হয়।

— সমাপ্ত —