বিরাটপর্ব: ২। ধৌম্যের উপদেশ—অজ্ঞাতবাসের উপক্রম
- page_number: ২৬৯
যুধিষ্ঠির বললেন, আপনি যে সদুপদেশ দিলেন তা মাতা কুন্তী ও মহামতি বিদুর ভিন্ন আর কেউ দিতে পারেন না। তারপর ধৌম্য পাণ্ডবগণের সমৃদ্ধিকামনায় মন্ত্রপাঠ ক'রে অগ্নিতে আহুতি দিলেন। হোমাগ্নি ও ব্রাহ্মণগণকে প্রদক্ষিণ ক'রে পঞ্চপাণ্ডব ও দ্রৌপদী অজ্ঞাতবাসে যাত্রা করলেন।
তাঁরা যমুনার দক্ষিণ তীর দিয়ে পদব্রজে চললেন। দুর্গম পৰ্ব্বত ও বন অতিক্রম করে দশার্ণ দেশের উত্তর, পাঞ্চালের দক্ষিণ, এবং যকৃল্লোম ও শূরসেন দেশের মধ্য দিয়ে পাণ্ডবগণ মৎস্য দেশে উপস্থিত হলেন। তাঁদের বর্ণ মলিন, মুখ শ্মশ্রুময়, হস্তে ধনু, কটিদেশে খড়্গ; কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলতেন, আমরা ব্যাধ। বিরাট-রাজধানীর অদূরে এসে দ্রৌপদী অত্যন্ত শ্রান্ত হয়ে পড়লেন, যুধিষ্ঠিরের আদেশে অর্জুন তাঁকে স্কন্ধে বহন করে চলতে লাগলেন। রাজধানীতে উপস্থিত হয়ে যুধিষ্ঠির বললেন, আমরা যদি সশস্ত্ৰ হয়ে নগরে প্রবেশ করি তবে লোকে উদ্বিগ্ন - Page Number: ২৭০ - Header: মহাভারত হবে; অর্জ্জুনের গাণ্ডীব ধনু অনেকেই জানে, তা দেখে আমাদের চিনে ফেলবে। অর্জ্জুন বললেন, শ্মশানের কাছে পৰ্ব্বতশৃঙ্গে ওই যে বৃহৎ শমীবৃক্ষ রয়েছে তাতে আমাদের অস্ত্র রাখলে কেউ নিতে সাহস করবে না। তখন পাণ্ডবগণ তাঁদের ধনু থেকে জ্যা বিযুক্ত করলেন এবং দীর্ঘ উজ্জ্বল খড়গ, তৃণীর ও ক্ষুরধার বৃহৎ বাণ সকল ধনুঃ সঙ্গে বাঁধলেন। নকুল শমীবৃক্ষে উঠে একটি দৃঢ় শাখায় অস্ত্রগুলি এমনভাবে রন্ধ্রবদ্ধ করলেন যাতে বৃষ্টি না লাগে। তার পর তিনি একটি মৃতদেহ সেই বৃক্ষে বেঁধে দিলেন, যাতে পূতিগন্ধ পেয়ে লোকে কাছে না আসে। গোপাল মেষপাল প্রভৃতির প্রশ্নের উত্তরে তাঁরা বললেন, ইনি আমাদের মাতা, বয়স আশি বা একশ, মৃতদেহ গাছে বেঁধে রাখাই আমাদের কুলধর্ম্ম।
যুধিষ্ঠির নিজেদের এই পাঁচটি গুপ্ত নাম রাখলেন — জয় জয়ন্ত বিজয় জয়সেন জয়দ্বল। তার পর সকলে সেই বিশাল নগরে প্রবেশ করলেন।