উদ্যোগপর্ব: ৪। ত্রিশিরা, বৃত্র, ইন্দ্র, নহুষ ও অগস্ত্য
যুধিষ্ঠির প্রশ্ন করলেন, মহারাজ, ইন্দ্র ও তাঁর ভার্যা কি প্রকারে দুঃখভোগ করেছিলেন? শল্য এই উপাখ্যান বললেন। —
ত্বষ্টা নামে এক প্রজাপতি ছিলেন, তিনি ইন্দ্রের প্রতি বিদ্বেষযুক্ত হয়ে ত্রিশিরা নামক এক পুত্রের জন্ম দিলেন। ত্রিশিরার তিন মুখ সূর্য চন্দ্র ও অগ্নির ন্যায়; তিনি এক মুখে বেদাধ্যয়ন, আর এক মুখে সুরাপান এবং তৃতীয় মুখে যেন সবদিক গ্রাস করে নিরীক্ষণ করতেন। ইন্দ্রত্বলাভের জন্য ত্রিশিরা কঠোর তপস্যায় রত হলেন। তাঁর তপোভঙ্গের জন্য ইন্দ্র বহু অপ্সরা পাঠালেন, কিন্তু ত্রিশিরা বিচলিত হলেন না, তখন তাঁকে মারবার জন্য ইন্দ্র বজ্র নিক্ষেপ করলেন। ত্রিশিরা নিহত হলেন, কিন্তু তাঁর মস্তক জীবিতের ন্যায় রইল। ইন্দ্র ভীত হয়ে একজন বর্ধকী (ছুতোর)কে বললেন, তুমি কুঠার দিয়ে এর মস্তক ছেদন কর। বর্ধকী বললে, এর স্কন্ধ অতি বৃহৎ, আমার কুঠারে কাটা যাবে না, এমন বিগর্হিত কর্মও আমি পারব না। কে আপনি? এই ঋষিপুত্রকে হত্যা করে আপনার ব্রহ্মহত্যার ভয় হচ্ছে না? ইন্দ্র বললেন, আমি দেবরাজ, এই মহাবল পুরুষ আমার শত্রু, সেজন্য বজ্রাঘাতে একে বধ করেছি, পরে আমি কঠোর প্রায়শ্চিত্ত করব। বর্ধকী, তুমি শীঘ্র এর শিরশ্ছেদ কর, আমি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করব; লোকে যখন যজ্ঞ করবে তখন নিহত পশুর মুণ্ড তোমাকে দেবে। বর্ধকী সম্মত হয়ে ত্রিশিরার তিন মুণ্ড কেটে ফেললে। প্রথম মুণ্ডের মুখ থেকে চাতক পক্ষীর দল, দ্বিতীয় মুখ থেকে চটক ও শ্যেন, এবং তৃতীয় মুখ থেকে তিতির পক্ষীর দল নির্গত হ’ল। ইন্দ্র হৃষ্ট হয়ে স্বগৃহে চলে গেলেন।
পুত্রের নিধনসংবাদ পেয়ে ত্বষ্টা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন এবং ইন্দ্রের বিনাশের নিমিত্ত অগ্নিতে আহুতি দিয়ে বৃত্রাসুরকে সৃষ্টি করলেন। ত্বষ্টার আজ্ঞায় বৃত্র স্বর্গে গিয়ে ইন্দ্রকে গ্রাস করলেন। দেবতারা উদ্বিগ্ন হয়ে জৃম্ভিকা (হাই) সৃষ্টি করলেন, তার প্রভাবে বৃত্র মুখব্যাদান করলেন, ইন্দ্রও দেহ সংকুচিত করে বেরিয়ে এলেন। তার পর ইন্দ্র বৃত্রের সঙ্গে বহু কাল যুদ্ধ করলেন, কিন্তু তাঁকে দমন করতে না পেরে বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলেন। বিষ্ণু বললেন, দেবতারা ঋষি ও গন্ধর্বদের নিয়ে তুমি বৃত্রের কাছে যাও, তার সঙ্গে সন্ধি কর। এই উপায়েই তুমি জয়লাভ করবে। আমি অদৃশ্যভাবে তোমার সঙ্গে অধিষ্ঠান করব।
ঋষিরা বৃত্রের কাছে গিয়ে বললেন, তুমি দুর্জয় বীর, তোমার তেজে জগৎ ব্যাপ্ত হয়ে আছে। কিন্তু তুমি ইন্দ্রকে জয় করতে পার নি, দীর্ঘকাল যুদ্ধের ফলে দেবাসুর মানুষ সকলেই পীড়িত হয়েছে। অতএব ইন্দ্রের সহিত সখ্য কর, তাতে তুমি সুখ ও অক্ষয় স্বর্গ লোক লাভ করবে। বৃত্র বললেন, আপনারা যদি এই ব্যবস্থা করেন যে শুষ্ক বা আর্দ্র বস্তু দ্বারা, প্রস্তর বা কাষ্ঠ বা অস্ত্রশস্ত্র দ্বারা, দিবসে বা রাত্রিতে, আমি ইন্দ্রাদি দেবতার বধ্য হব না, তবেই আমি সন্ধি করতে পারি। ঋষিরা বললেন, তাই হবে। বৃত্রের সঙ্গে সন্ধি ক’রে ইন্দ্র চ’লে গেলেন।
একদিন ইন্দ্র সমুদ্রতীরে বৃত্রাসুরকে দেখতে পেলেন। ইন্দ্র ভাবলেন, এখন সন্ধ্যাকাল, দিনও নয় রাত্রিও নয়; এই পর্ব্বতাকার সমুদ্রফেন শুষ্কও নয় আর্দ্রও নয়, অস্ত্রও নয়। এই স্থির ক’রে ইন্দ্র বৃত্রের উপরে বজ্রের সহিত সমুদ্রফেন নিক্ষেপ করলেন। বিষ্ণু সেই ফেনে প্রবেশ ক’রে বৃত্রকে বধ করলেন। পূর্ব্বে ত্রিশিরাকে বধ ক’রে ইন্দ্র ব্রহ্মহত্যার পাপ করেছিলেন, এখন আবার মিথ্যাচার ক’রে অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলেন। মহাদেবের ভূতরা ইন্দ্রকে বার বার ব্রহ্মহত্যাকারী ব’লে লজ্জা দিতে লাগল। অবশেষে ইন্দ্র নিজের দুষ্কৃতির জন্য অচেতনপ্রায় হয়ে জলমধ্যে প্রচ্ছন্ন হয়ে বাস করতে লাগলেন। ইন্দ্রের অন্তর্ধানে পৃথিবী বিধ্বস্ত, কানন শুষ্ক এবং নদীর স্রোত রুদ্ধ হ’ল, জলাশয় শুকিয়ে গেল, অনাবৃষ্টি ও অরাজকতার ফলে সকল প্রাণী সংক্ষুব্ধ হ’ল। দেবতা ও মহর্ষিরা ত্রস্ত হয়ে ভাবতে লাগলেন, কে আমাদের রাজা হবেন। কিন্তু কোনও দেবতা দেবরাজের পদ নিতে চাইলেন না।
অবশেষে দেবগণ ও মহর্ষিগণ তেজস্বী যশস্বী ধার্মিক নহুষকে বললেন, তুমিই দেবরাজ হও। নহুষ বললেন, আমি দুর্ব্বল, ইন্দ্রের তুল্য নই। দেবতা ও ঋষিরা বললেন, তুমি আমাদের তপঃপ্রভাবে বলশালী হয়ে স্বর্গরাজ্য শাসন কর। নহুষ অভিষিক্ত হয়ে ধর্মানুসারে সর্ব্বলোকের আধিপত্য করতে লাগলেন। যিনি প্রথমে ধার্মিক ছিলেন কিন্তু পরে কামপরায়ণ ও বিলাসী হয়ে পড়লেন। একদিন তিনি শচীকে দেখে সভাসদগণকে বললেন, ইন্দ্রমহিষী আমার সেবা করেন না কেন? উনি সত্বর আমার গৃহে আসুন। শচী উদ্বিগ্ন হয়ে বৃহস্পতির কাছে গিয়ে বললেন, আমাকে রক্ষা করুন। বৃহস্পতি তাঁকে আশ্বস্ত ক’রে বললেন, ভয় পেয়ো না, শীঘ্রই তুমি ইন্দ্রের সঙ্গে মিলিত হবে।
শচী বৃহস্পতির শরণ নিয়েছেন জেনে নহুষ ক্রুদ্ধ হলেন। দেবগণ ও ঋষিগণ তাঁকে বললেন, তুমি ক্রোধ সংবরণ কর, পরস্ত্রীসংসর্গের পাপ থেকে নিবৃত্ত হও; তুমি দেবরাজ, ধর্মানুসারে প্রজাপালন কর। নহুষ বললেন, ইন্দ্র যখন গৌতম- পত্নী অহল্যাকে ধর্ষণ করেছিলেন এবং আরও অনেক ধর্মবিরুদ্ধ নৃশংস ও অশুভময় কার্য করেছিলেন তখন আপনারা বারণ করেন নি কেন? শচী আমার সেবা করুন, তাতে তাঁর ও আপনাদের মঙ্গল হবে। দেবতারা বৃহস্পতির কাছে গিয়ে বললেন, আপনি ইন্দ্রাণীকে নহুষের হস্তে সমর্পণ করুন, তিনি ইন্দ্র অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, বরবর্ণিনী শচী তাঁকেই এখন পতিত্বে বরণ করুন। শচী কাতর হয়ে কাঁদতে লাগলেন। বৃহস্পতি বললেন, ইন্দ্রাণী, আমি শরণাগতকে ত্যাগ করি না, তুমি নিশ্চিন্ত থাক। দেবগণ, তোমরা চলে যাও।
দেবতারা বললেন, কি করলে সকলের পক্ষে ভাল হয় আপনি বলুন। বৃহস্পতি বললেন, ইন্দ্রাণী নহুষের কাছে কিছুকাল অবকাশ প্রার্থনা করুন, তাতে সকলের শুভ হবে। কালক্রমে বহু বিঘ্ন ঘটে, নহুষ বলশালী ও দর্পিত হলেও কালই তাঁকে কালসদনে পাঠাবে। শচী নহুষের কাছে গেলেন এবং কম্পিতদেহে কৃতাঞ্জলি হ’য়ে বললেন, সুরেশ্বর, আমাকে কিছুকাল অবকাশ দিন। ইন্দ্র কোথায় কি অবস্থায় আছেন আমি জানি না, অনুসন্ধান ক’রেও যদি তাঁর সংবাদ না পাই তবে নিশ্চয় আপনার সেবা করব। নহুষ সম্মত হলেন, শচীও বৃহস্পতির কাছে ফিরে গেলেন।
তার পর দেবতারা বিষ্ণুর কাছে গিয়ে বললেন, আপনার বীর্যেই বৃত্র নিহত হয়েছে এবং তাঁর ফলে ইন্দ্র ব্রহ্মহত্যার পাপে পড়েছেন। এখন তাঁর মুক্তির উপায় বলুন। বিষ্ণু বললেন, ইন্দ্র অশ্বমেধ যজ্ঞে আমার পূজা করুন, তাতে তিনি পাপমুক্ত হ’য়ে দেবরাজ্য ফিরে পাবেন, দুর্মতি নহুষও বিনষ্ট হবে। দেবগণ ও বৃহস্পতি প্রভৃতি ঋষিগণ ইন্দ্রের কাছে গিয়ে অশ্বমেধ যজ্ঞ করলেন এবং তার ফলে ইন্দ্র ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্ত হলেন। তাঁর পাপ বিভক্ত হ’য়ে বৃক্ষ নদী পর্বত ভূমি স্ত্রী ও প্রাণিগণে সংক্রামিত হ’ল।
দেবরাজপদে নহুষকে দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত দেখে ইন্দ্র পুনর্বার আত্মগোপন করে কালপ্রতীক্ষা করতে লাগলেন। শোকার্তা শচী তখন উপশ্রুতি নাম্নী ক্ষিপ্রদেবীর উপাসনা করলেন। উপশ্রুতি মূর্তিমতী হয়ে দর্শন দিলেন এবং শচীকে সঙ্গে নিয়ে সমুদ্রমধ্যে এক মহাদ্বীপে উপস্থিত হলেন। সেই দ্বীপের মধ্যে শত যোজন বিস্তীর্ণ সরোবরে উন্নত বৃন্তের উপরে একটি শ্বেতবর্ণ বৃহৎ পদ্ম ছিল। উপশ্রুতির সঙ্গে শচী সেই পদ্মের নাল ভেদ ক’রে ভিতরে গিয়ে দেখলেন, মৃণাল-সূত্রের মধ্যে ইন্দ্র অতি সূক্ষ্মরূপে অবস্থান করছেন। শচী তাঁকে বললেন, প্রভু, তুমি যদি আমাকে রক্ষা না কর, তবে নহুষ আমাকে বশে আনবে। তুমি স্বমূর্তিতে প্রকাশিত হও এবং নিজ বলে পাপিষ্ঠ নহুষকে বধ ক’রে দেবরাজ্য শাসন কর।
ইন্দ্র বললেন, বিক্রম প্রকাশের সময় এখনও আসেনি, নহুষ আমার চেয়ে বলবান, ঋষিরাও হব্য কব্য দিয়ে তাঁর শক্তি বাড়িয়েছেন। তুমি নির্জনে নহুষকে এই কথা বল—জগৎপতে, আপনি ঋষিবাহিত যানে আমার নিকট আসুন, তা হ’লে আমি সানন্দে আপনার বশীভূত হব। শচী নহুষের কাছে গিয়ে বললেন, দেবরাজ, আপনি যদি আমার একটি ইচ্ছা পূর্ণ করেন তবে আপনার বশগামিনী হব। আপনি এমন বাহনে চড়ুন যা বিষ্ণু, রুদ্র বা কোনও দেবতা বা রাক্ষসের নেই। আমার ইচ্ছা, মহাত্মা ঋষিগণ মিলিত হ’য়ে আপনার শিবিকা বহন করুন। নহুষ বললেন, বরবর্ণিনী, তুমি অপূর্ব্ব বাহনের কথা বলেছ, আমি তোমার কথা রাখব।
ঐরাবত প্রভৃতি দিব্য হস্তী, হংসযুক্ত বিমান ও দিব্যাশ্বযোজিত রথ ত্যাগ ক’রে নহুষ মহর্ষিগণকে তাঁর শিবিকাবহনে নিযুক্ত করলেন। তখন বৃহস্পতি অগ্নিকে বললেন, তুমি ইন্দ্রের অন্বেষণ কর। অগ্নি সর্বত্র অন্বেষণ ক’রে বললেন, ইন্দ্রকে কোথাও দেখলাম না, কেবল জল অবশিষ্ট আছে, কিন্তু তাতে প্রবেশ করলে আমি নির্বাপিত হব। অগ্নির স্তুতি ক’রে বৃহস্পতি বললেন, নিঃশঙ্কে জলে প্রবেশ কর, তোমাকে আমি সনাতন ব্রাহ্ম মন্ত্রে বর্ধিত করব। অগ্নি সর্বপ্রকার জলে অন্বেষণ ক’রে অবশেষে পদ্মের মৃণালমধ্যে ইন্দ্রকে দেখতে পেলেন এবং ফিরে এসে বৃহস্পতিকে জানালেন। তখন দেবতা ঋষি ও গন্ধর্বদের সঙ্গে বৃহস্পতি ইন্দ্রের কাছে গিয়ে স্তব ক’রে বললেন, মহেন্দ্র, তুমি দেবতা ও মনুষ্যকে রক্ষা কর, বল লাভ কর। স্তুত হ’য়ে ইন্দ্র ধীরে ধীরে বৃদ্ধি লাভ করলেন।
দেবতারা নহুষবধের উপায় চিন্তা করছিলেন এমন সময় ভগবান অগস্ত্য ঋষি সেখানে এলেন। তিনি বললেন, পুরন্দর, ভাগ্যক্রমে তুমি শত্রুহীন হয়েছ, নহুষ দেবরাজ্য থেকে ভ্রষ্ট হয়েছেন। দেবর্ষি ও মহর্ষিগণ যখন নহুষকে শিবিকায় বহন করছিলেন, তখন এক সময়ে তাঁরা শ্রান্ত হ’য়ে নহুষকে প্রশ্ন করলেন, দ্বিজর্ষিশ্রেষ্ঠ, ব্রহ্মা যে গোপ্রোক্ষণ (যজ্ঞে গোবধ) সম্বন্ধে মন্ত্র বলেছেন, তা তুমি প্রামাণিক মনে কর কি না? নহুষ মোহবশে উত্তর দিলেন, না, — ও মন্ত্র প্রামাণিক নয়। ঋষিরা বললেন, তুমি অধর্মে নিরত তাই ধর্ম বোঝ না। প্রাচীন মহর্ষিগণ এই মন্ত্র প্রামাণিক মনে করেন, আমরাও করি। ঋষিদের সঙ্গে বিবাদ করতে করতে নহুষ তাঁর পা দিয়ে আমার মাথা স্পর্শ করলেন। তখন আমি এই শাপ দিলাম—মূঢ় তুমি ব্রহ্মর্ষিগণের অনুষ্ঠিত কর্মের দোষ দিচ্ছ, চরণ দিয়ে আমার মস্তক স্পর্শ করেছ, ব্রহ্মার তুল্য ঋষিগণকে বাহন করেছ, তুমি ক্ষীণপুণ্য (১) হ'য়ে মহীতলে পতিত হও। সেখানে তুমি মহাকায় সর্প (২) রূপে দশ সহস্র বৎসর বিচরণ করবে, তার পর তোমার বংশজাত যুধিষ্ঠিরকে দেখলে আবার স্বর্গে আসতে পারবে। শচীপতি, দুরাত্মা নহুষ এইরূপে স্বর্গচ্যুত হয়েছে, এখন তুমি স্বর্গে গিয়ে ত্রিলোক পালন কর। তার পর ইন্দ্র শচীর সঙ্গে মিলিত হ'য়ে পরমানন্দে দেবরাজ্য পালন করতে লাগলেন।
উপাখ্যান শেষ ক'রে শল্য বললেন, যুধিষ্ঠির, ইন্দ্রের ন্যায় তুমিও শত্রু বধ করে রাজ্যলাভ করবে। আমি যে বেদতুল্য ইন্দ্রবিজয় নামক উপাখ্যান বললাম, তা জয়াভিলাষী রাজার শোনা উচিত। এই উপাখ্যান পাঠ করলে ইহলোকে ও পরলোকে আনন্দলাভ এবং পুত্র, দীর্ঘ আয়ু ও সর্বত্র জয় লাভ হয়।
যথাবিধি পূজিত হয়ে শল্য বিদায় নিলেন। যুধিষ্ঠির তাঁকে বললেন, আপনি অবশ্যই কর্ণের সারথি হবেন এবং অর্জুনের প্রশংসা ক'রে কর্ণের তেজ নষ্ট করবেন। শল্য বললেন, তুমি যা বললে তাই করব এবং আর যা পারব তাও করব।