কর্ণপর্ব: ৩। দণ্ডধার-দণ্ড-বধ — রণভূমির ভীষণতা

#### ( ষোড়শ দিনের আরও যুদ্ধ )

মগধরাজ দণ্ডধার পাণ্ডবসেনার উত্তর দিকে রথ হস্তী অশ্ব ও পদাতি বিনষ্ট করছিলেন। আর্তনাদ শুনে কৃষ্ণ রথ ফিরিয়ে নিয়ে অর্জুনকে বললেন, রাজা দণ্ডধার অস্ত্রবিদ্যায় ও পরাক্রমে ভগদত্তের চেয়ে নিকৃষ্ট নন, তাঁর হস্তীও বিপক্ষসেনা মর্দন করে। অতএব তুমি আগে তাঁকে বধ ক'রে তার পর সংশপ্তকদের সঙ্গে যুদ্ধ করো। এই ব'লে কৃষ্ণ অর্জুনের রথ দণ্ডধারের কাছে নিয়ে গেলেন। দণ্ডধার তখন শরাঘাতে পাণ্ডবসেনা সংহার করছিলেন, তাঁর হস্তীও চরণ ও শুণ্ডের প্রহারে রথ অশ্ব গজ ও সৈন্য মর্দন করছিল। অর্জুন ক্ষুরধার তিন বাণে দণ্ডধারের বাহুদ্বয় ও মস্তক ছেদন করলেন এবং হস্তী ও হস্তিচালককেও নিপাতিত করলেন। মগধরাজকে নিহত দেখে তাঁর ভ্রাতা দণ্ড হস্তিপৃষ্ঠে এসে কৃষ্ণার্জুনকে আক্রমণ করলেন, কিন্তু তিনিও অর্জুনের অর্দ্ধচন্দ্র বাণে ছিন্নবাহু ছিন্নমুণ্ড হলেন। তার পর অর্জুন ফিরে গিয়ে পুনর্বার সংশপ্তকদের বধ করতে লাগলেন। কৃষ্ণ বললেন, অর্জুন, তুমি খেলা করছ কেন, সংশপ্তকদের বিনষ্ট ক'রে কর্ণবধে ত্বরান্বিত হও।

অর্জুন অবশিষ্ট (১) সংশপ্তকগণকে বধ করলেন। শরক্ষেপণে অর্জুনের ক্ষিপ্রতা দেখে গোবিন্দ বললেন, আশ্চর্য! তার পর তিনি রথের শ্বেতবর্ণ চার অশ্ব চালিত করলেন। হংস যেমন সরোবরে যায় সেইরূপ অশ্বগুলি শত্রুসৈন্যমধ্যে প্রবেশ করলে। সংগ্রামভূমি দেখতে দেখতে কৃষ্ণ বললেন, পার্থ, দুর্যোধনের জন্যই পৃথিবীর রাজাদের এই ভীষণ রণ হচ্ছে। দেখ, চতুর্দিকে স্বর্ণভূষিত ধনুবাণ তোমার প্রাস চর্ম প্রভৃতি বিকীর্ণ হয়ে রয়েছে, জয়াভিলাষী অস্ত্রধারী যোদ্ধারা প্রাণহীন হয়ে পড়ে আছে, কিন্তু তাদের জীবিতের ন্যায় দেখাচ্ছে। বীরগণের কুণ্ডলভূষিত চন্দ্রবদন এবং শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখমণ্ডলে যুদ্ধস্থল আবৃত হয়েছে, ভূমিতে শোণিতের কর্দম হয়েছে, চারিদিকে জীবিত মানুষ কাতর শব্দ করছে। আত্মীয়রা অস্ত্র ত্যাগ করে সরোদনে জলসেক করে আহতদের পরিচর্যা করছে। কেউ কেউ মৃত বীরগণকে আচ্ছাদিত ক'রে আবার যুদ্ধ করতে যাচ্ছে, কেউ কেউ অচেতন প্রিয় বন্ধুকে আলিঙ্গন করছে। অর্জুন, তুমি এই মহাযুদ্ধে যে কর্ম করেছ তা তোমারই অথবা দেবরাজেরই যোগ্য।

(১) কিন্তু এর পরেও সংশপ্তকরা যুদ্ধ করেছে।