কর্ণপর্ব: ৭। কর্ণ-দুর্য্যোধন-শলা-সংবাদ

শত্রুর হস্তে পরাজিত প্রহৃত ও বিধ্বস্ত হয়ে কৌরবগণ ভগ্নদম্ভ হতবিষ পদাহত সর্পের ন্যায় শিবিরে ফিরে এসে মন্ত্রণা করতে লাগলেন। কর্ণ হাতে হাত ঘষে দুৰ্য্যোধনকে বললেন, মহারাজ, অর্জ্জুন দৃঢ় দক্ষ ও ধৈর্য্যশালী, আবার কৃষ্ণ তাঁকে কালোপযোগী মন্ত্রণা দিয়ে থাকেন। আজ সে অতর্কিতে অস্ত্রপ্রয়োগ ক’রে আমাদের বঞ্চিত করেছে, কিন্তু কাল আমি তার সকল সংকল্প নষ্ট করব।

পরদিন প্রভাতকালে কর্ণ দুৰ্য্যোধনকে বললেন, আজ আমি হয় অৰ্জ্জুনকে বধ করব নতুবা তার হাতেই নিহত হব। আমি আর অৰ্জ্জুন এপর্য্যন্ত নানা দিকে ব্যাপৃত ছিলাম, সেজন্য আমাদের যুদ্ধে মিলনই হয় নি। আমাদের পক্ষের প্রধান বীরগণ হত হয়েছেন, ইন্দ্রদত্ত শক্তি অস্ত্রও আর আমার নেই; তথাপি অস্ত্রবিদ্যায় শৌর্য্যে ও জ্ঞানে সব্যসাচী আমার সমকক্ষ নয়। যে ধনুর দ্বারা ইন্দ্র দৈত্যগণকে জয় করেছিলেন, ইন্দ্র যে ধনু পরশুরামকে দিয়েছিলেন, যার দ্বারা পরশুরাম একুশ বার পৃথিবী জয় করেছিলেন, যা পরশুরাম আমাকে দান করেছেন, বিজয়-নামক সেই ভয়ঙ্কর দিব্য ধনু গাণ্ডীব ধনু অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। সেই ধনুর দ্বারা আমি যুদ্ধে অৰ্জ্জুনকে বধ করব। কিন্তু যে যে বিষয়ে আমি অৰ্জ্জুনের তুলনায় হীন তাও আমার বুঝা উচিত। অৰ্জ্জুনের ধনুতে দিব্য জ্যা আছে; তার দুই অক্ষয় তূণীর আছে, আবার গোবিন্দ তার সারথি ও রক্ষক। তার অগ্নিদত্ত দিব্য অভেদ্য রথ আছে, তার অশ্বসকল মনের ন্যায় দ্রুতগামী, এবং রথধ্বজের উপর যে বানর আছে তাও ভয়ঙ্কর। এইসকল বিষয়ে আমি অর্জ্জুন অপেক্ষা হীন, তথাপি তার সঙ্গে আমি যুদ্ধ করতে ইচ্ছা করি। শল্য কৃষ্ণের সমান, তিনি যদি আমার সারথি হন তবে নিশ্চয় তোমার বিজয়লাভ হবে। আরও, বহু শকট আমার বাণ ও নারাচ বহন ক’রে চলুক, উত্তম অশ্বযুক্ত বহু রথ আমার পশ্চাতে থাকুক।