শল্যপর্ব: ৫। উলূক-শকুনি-বধ

(অষ্টাদশ দিনের আরও যুদ্ধ)

মহাবীর শাল্ব নিহত হ'লে কৌরবস্যৈন্য আবার ভগ্ন হ'ল। রুদ্রের ন্যায় প্রতাপবান দুর্যোধন তথাপি অদম্য উৎসাহে বাণবর্ষণ করতে লাগলেন। পাণ্ডবগণ মিলিত হয়েও তাঁর সম্মুখে দাঁড়াতে পারলেন না। অশ্বত্থামা শকুনি উলূক এবং কৃপাচার্য ও পাণ্ডবদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে লাগলেন। দুর্যোধনের আদেশে সাত শ রথী যুধিষ্ঠিরকে আক্রমণ করলেন, কিন্তু পাণ্ডব ও পাঞ্চালগণের হস্তে তাঁরা নিহত হলেন। তার পর নানা দিকে বিশৃঙ্খল ভাবে যুদ্ধ হ'তে লাগল। গান্ধাররাজ শকুনি দশ হাজার প্রাসধারী অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে এলেন, কিন্তু তাঁর বহু সৈন্য নিহত হ'ল। ধৃষ্টদ্যুম্ন দুর্যোধনের অশ্ব ও সারথি বিনষ্ট করলেন, তখন দুর্যোধন একটি অশ্বের পৃষ্ঠে চড়ে শকুনির কাছে গেলেন। কিছুক্ষণ পরে অশ্বত্থামা কৃপাচার্য ও কৃতবর্মা তাঁদের রথারোহী যোদ্ধাদের ত্যাগ ক'রে শকুনি-দুর্যোধনের সঙ্গে মিলিত হলেন।

ব্যাসদেবের বরে সঞ্জয় দিব্যচক্ষু লাভ ক'রে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে উপস্থিত থাকতেন এবং প্রতিদিন যুদ্ধশেষে ধৃতরাষ্ট্রকে যুদ্ধবৃত্তান্ত জানাতেন (১)। কৌরব-সৈন্য ক্ষীণ এবং শত্রুসৈন্য বেষ্টিত হয়েছে দেখে সঞ্জয় ও চার জন যোদ্ধা প্রাণের মায়া ত্যাগ ক'রে ধৃষ্টদ্যুম্নের সৈন্যদের সঙ্গে কিছুক্ষণ যুদ্ধ করলেন, কিন্তু অৰ্জ্জুনের বাণে নিপীড়িত হয়ে অবশেষে যুদ্ধে বিরত হলেন। সাত্যকির প্রহারে সঞ্জয়ের বৰ্ম্ম বিদীর্ণ হ'ল। তিনি মূৰ্চ্ছিত হলেন, তখন সাত্যকি তাঁকে বন্দী করলেন।

(১) ভীষ্মপর্ব ২-পরিচ্ছেদ দ্রষ্টব্য।

দুৰ্ম্মৰ্ষণ শ্ৰুত ও জৈত্ৰ প্ৰভৃতি ধৃতরাষ্ট্রের দ্বাদশ পুত্র ভীমসেনের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধ করলেন, কিন্তু সকলেই নিহত হলেন। অৰ্জ্জুন কৃষ্ণকে বললেন, ভীমসেন ধৃতরাষ্ট্রের সকল পুত্রকেই বধ করেছেন, যে দুজন (দুৰ্য্যোধন ও সুদৰ্শন) অবশিষ্ট আছে তারাও আজ নিহত হবে। শকুনির পাঁচ শত অশ্ব, দুই শত রথ, এক শত গজ ও এক সহস্র পদাতি, এবং কৌরবপক্ষে অশ্বত্থামা কৃপ সুশৰ্ম্মা শকুনি উলূক ও কৃতবৰ্ম্মা এই ৫ জন বীর অবশিষ্ট আছেন; দুৰ্য্যোধনের এর অধিক বল নেই। মূঢ় দুৰ্য্যোধন যদি যুদ্ধ থেকে না পালায় তবে তাকে নিহত বলেই জানবে।

তার পর অৰ্জ্জুন ত্ৰিগৰ্ত্তদেশীয় সত্যকৰ্ম্মা সত্যেষু সুশৰ্ম্মা সুশৰ্ম্মার পঁয়ত্ৰিশ জন পুত্র, এবং তাঁদের অনুচরদের বিনষ্ট করলেন। দুৰ্য্যোধনভ্রাতা সুদৰ্শন ভীমসেন কর্তৃক নিহত হলেন। শকুনি, তাঁর পুত্র উলূক, এবং তাঁদের অনুচরগণ মৃত্যুপণ ক'রে পাণ্ডবদের প্রতি ধাবিত হলেন। সহদেব উলূকের আঘাতে শিরশ্চেদ করলেন। শকুনি সাশ্ৰুকণ্ঠে সাশ্ৰুনয়নে যুদ্ধ করতে লাগলেন এবং একটি ভীষণ শক্তি অস্ত্র সহদেবের প্রতি নিক্ষেপ করলেন। সহদেব বাণদ্বারা সেই শক্তি ছেদন ক'রে ভল্লের আঘাতে শকুনির মস্তক দেহচ্যুত করলেন। শকুনির অনুচরগণও অৰ্জ্জুনের হস্তে নিহত হ'ল।