শান্তিপর্ব: ৯। পিতা মাতা ও গুরু — ব্যবহার — রাজকোষ
ভীষ্ম বললেন, পিতা মাতা ও গুরুর সেবাই পরম ধর্ম। দশ জন শ্রোত্রিয় (বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ) অপেক্ষা পিতা শ্রেষ্ঠ, দশ পিতা বা সমস্ত পৃথিবী অপেক্ষা মাতা শ্রেষ্ঠ। কিন্তু আমার মতে পিতা মাতা অপেক্ষাও গুরু শ্রেষ্ঠ। মানুষের নশ্বর দেহ পিতা মাতা হতে উৎপন্ন, কিন্তু আচার্যের উপদেশে যে জন্মলাভ হয় তা অজর অমর।
যুধিষ্ঠির, ক্রোধাবিষ্ট লোক যদি টিট্টিভ পক্ষীর ন্যায় কর্কশ বাক্য বলে তবে তা গ্রাহ্য করবে না। যে নরাধম নিন্দিত কর্ম করে আত্মপ্রশংসা করে তাকেও উপেক্ষা করবে। দুষ্ট খলের সঙ্গে বাক্যালাপ করাও উচিত নয়। মনু বলেছেন, যার দ্বারা প্রিয় বা অপ্রিয় সকল লোকের প্রতিই অপক্ষপাতে দণ্ডপ্রয়োগ করে প্রজাপালন করা যায় তারই নাম ধর্ম। দণ্ডের ভয়েই লোকে পরস্পরের হানি থেকে বিরত থাকে। সম্যকরূপে ধর্ম্মের নির্ধারণকেই ব্যবহার (আইন) বলে। বাদী-প্রতিবাদীর মধ্যে একজন বিশ্বাস উৎপাদন ক'রে জয়ী হয়, অপর জন দণ্ডলাভ করে; এই ব্যবহারশাস্ত্র রাজাদের জানা বিশেষ আবশ্যক। ব্যবহার দ্বারা যা নির্ধারিত হয় তাই বেদ, তাই ধর্ম, তাই সৎপথ। যে রাজা ধর্মনিষ্ঠ তাঁর দৃষ্টিতে মাতা পিতা ভ্রাতা ভাৰ্য্যা পুরোহিত কেউ দণ্ডের বহির্ভূত নন।
রাজকোষ যদি ক্ষয় পায় তবে রাজার বলক্ষয় হয়। আপৎকালে অধর্ম্মও ধৰ্ম্মতুল্য হয় এবং ধর্ম্মও অধর্ম্মতুল্য হয়। সংকটে পড়লে ব্রাহ্মণ অযাজ্য লোকেরও যাজন করেন, অভোজ্য অন্নও ভোজন করেন। সেইরূপ ক্ষত্রিয় রাজা আপৎকালে ব্রাহ্মণ ও তপস্বী ভিন্ন অন্যের ধন সবলে গ্রহণ করতে পারেন। অরণ্যচারী মুনি ভিন্ন আর কেউ হিংসা বর্জন করে জীবিকানিৰ্ব্বাহ করতে পারে না। ধনবান লোকের অপ্রাপ্য কিছু নেই, রাজকোষ পূর্ণ থাকলে রাজা সকল বিপদ থেকে উত্তীর্ণ হন।