আশ্বমেধিকপর্ব: ৭। কৃষ্ণের দ্বারকায় আগমন
দ্বারকায় এসে কৃষ্ণ তাঁর পিতা বসুদেবকে সবিস্তারে কুরু-পাণ্ডবযুদ্ধের বিবরণ দিলেন, কিন্তু দৌহিত্র অভিমন্যুর মৃত্যুসংবাদে বসুদেব অত্যন্ত কাতর হবেন এই আশঙ্কায় তা জানালেন না। সুভদ্রা বললেন, তুমি আমার পুত্রের নিধনের কথা গোপন করলে কেন? এই ব'লে সুভদ্রা ভূপতিত হলেন। বসুদেব শোকার্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন কৃষ্ণ অভিমন্যুর মৃত্যুর সংবাদ দিলেন। দৌহিত্রের আশ্চর্য বীরত্বের বিবরণ শুনে বসুদেব শোক সংবরণ ক'রে যথাবিধি শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠান করলেন।
হস্তিনাপুরে পাণ্ডবগণও অভিমন্যুর জন্য কাতর হয়ে কালযাপন করছিলেন। বিরাটতনয়া উত্তরা পতির শোকে দীর্ঘকাল অনাহারে ছিলেন, তার ফলে তাঁর গর্ভস্থ সন্তান ক্ষীণ হ'তে লাগল। ব্যাসদেব উত্তরাকে বললেন, যশস্বিনী, শোক ত্যাগ কর, তোমার মহাতেজা পুত্র হবে, বাসুদেবের প্রভাবে এবং আমার বাক্য অনুসারে সে পাণ্ডবগণের পরে পৃথিবী শাসন করবে। তার পর যুধিষ্ঠির অশ্বমেধ যজ্ঞের জন্য উদ্যোগী হলেন। তিনি ধৃতরাষ্ট্রপুত্র যুযুৎসুকে রাজ্যরক্ষার ভার দিলেন এবং মরুত্ত রাজার সুবর্ণরাশি আনবার জন্য শতানীককে পুরোহিত ধৌম্য ও ভ্রাতাদের সঙ্গে সসৈন্যে হিমালয়ের অভিমুখে যাত্রা করলেন। যথাস্থানে এসে যুধিষ্ঠির শিবির স্থাপনের আজ্ঞা দিলেন এবং পুষ্প মোদক পায়স মাংস প্রভৃতি উপহার দিয়ে মহেশ্বরের পূজা করলেন। যক্ষরাজ কুবের এবং তাঁর অনুচরগণের জন্যও কৃশর মাংস তিল ও অন্নাদি নিবেদিত হ'ল। তার পর যুধিষ্ঠির ব্রাহ্মণগণের অনুমতি নিয়ে ভূমি খননের আদেশ দিলেন। সুবর্ণময় ক্ষুদ্র বৃহৎ বহুবিধ ভাণ্ড ভৃঙ্গার কটাহ এবং শত সহস্র বিচিত্র আধার সেই খনি থেকে উদ্ধৃত হ’ল। তার পর যুধিষ্ঠির পুনর্বার মহাদেবের পূজা করলেন এবং বহু সহস্র উষ্ট্র অশ্ব হস্তী গর্দভ ও শকটের উপর সেই সুবর্ণ-রাশি বন্ধন ক’রে হস্তিনাপুরে যাত্রা করলেন। গুরুভারপীড়িত বাহনগণ দুই ক্রোশ অন্তর বিশ্রাম ক’রে চলতে লাগল!