আশ্বমেধিকপর্ব: ৯। যজ্ঞাশ্বের সহিত অর্জ্জুনের যাত্রা

কিছুদিন পরে ব্যাসদেব হস্তিনাপুরে এলে যুধিষ্ঠির তাঁকে বললেন, ভগবান, আপনার প্রসাদে আমি যজ্ঞের জন্য ধনরত্ন সংগ্রহ করেছি, এখন আপনি যজ্ঞের অনুমতি দিন। ব্যাস বললেন, আমি অনুমতি দিলাম, তুমি অশ্বমেধ যজ্ঞ ক'রে বহু দক্ষিণা দাও, তার ফলে নিশ্চয় পাপমুক্ত হবে।

যুধিষ্ঠির কৃষ্ণকে বললেন, যদুনন্দন, তোমাকে জন্ম দিয়ে দেবকী সুপুত্রবতী হয়েছেন, তোমার প্রভাবে আমরা ভোগ্য বিষয় অর্জন করেছি, তোমার পরাক্রম ও বুদ্ধিতে পৃথিবী জয় করেছি। তুমি আমাদের পরম গুরু, তুমিই যজ্ঞ, তুমিই ধর্ম্ম, তুমিই প্রজাপতি; অতএব তুমিই দীক্ষিত হয়ে আমার যজ্ঞ সম্পাদন কর। কৃষ্ণ বললেন, মহারাজ, আপনি কুরুবীরগণের অগ্রণী হয়ে ধর্মপালন করছেন, আপনি আমাদের রাজা ও গুরু। অতএব আপনিই দীক্ষিত হয়ে যজ্ঞ করুন এবং আপনার অভীষ্ট কার্যে আমাদের নিয়োজিত করুন।

যুধিষ্ঠির সম্মত হ'লে ব্যাসদেব তাঁকে বললেন, পৈল যাজ্ঞবল্ক্য ও আমি, আমরা তিন জনে যজ্ঞের সকল কর্ম্ম সম্পাদন করব। চৈত্রপূর্ণিমায় তুমি যজ্ঞের জন্য দীক্ষিত হবে। অশ্ববিদ্যাবিশারদ সূত ও ব্রাহ্মণগণ যজ্ঞীয় অশ্ব নির্বাচন করুন, তার পর সেই অশ্ব মুক্ত হয়ে তোমার যশরাশি প্রদর্শন ক'রে সাগরাম্বরা পৃথিবী পরিভ্রমণ করুক। দিবাধনুর্ধ্বাণধারী ধনঞ্জয় সেই অশ্বকে রক্ষা করবেন।

ভীমসেন ও নকুল রাজ্যপালন এবং সহদেব কুটুম্বগণের তত্ত্ববধান করবেন। ব্যাসের উপদেশ অনুসারে সকল ব্যবস্থা ক'রে যুধিষ্ঠির অর্জুনকে বললেন, মহাবাহু, কোনও রাজা যদি তোমাকে বাধা দেন তবে তুমি চেষ্টা করবে যাতে যুদ্ধ না হয়, এবং তাঁকে আমার এই যজ্ঞে নিমন্ত্রণ করবে।

যথাকালে যুধিষ্ঠির দীক্ষিত হয়ে স্বর্ণমালা কৃষ্ণাজিন দণ্ড ও ক্ষৌমবাস ধারণ করলেন। যজ্ঞের অশ্ব ছেড়ে দেওয়া হ'ল; অর্জুন শ্বেত অশ্বে আরোহণ ক'রে সেই কৃষ্ণসার (শ্বেতকৃষ্ণ মিশ্রিতবর্ণ) যজ্ঞাশ্বের অনুগমন করলেন। বহু বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয় বীর অর্জুনের সঙ্গে যাত্রা করলেন। সকলে বললেন, অর্জুন, তোমার মঙ্গল হ'ক, তুমি নির্বিঘ্নে ফিরে এসো।