আশ্রমবাসিকপর্ব: ৩। ধৃতরাষ্ট্রের প্রজাসম্ভাষণ
ব্যাসদেব এসে যুধিষ্ঠিরকে বললেন, কুরুনন্দন ধৃতরাষ্ট্র যা বলছেন তাতে তুমি সম্মত হও, আর বিচারের প্রয়োজন নেই। ইনি বৃদ্ধ ও পুত্ৰশোকার্ত, আমাদের বনগমনের অনুমতি দিন। সম্পদে ও বিপদে কুন্তীপুত্ৰ যুধিষ্ঠিরের প্রতি আপনারা সমদৃষ্টি রাখবেন। লোকপাল তুল্য চার ভ্রাতা যাঁর সচিব সেই সহস্রাক্ষের ন্যায় মহাতেজা যুধিষ্ঠির আপনাদের পালন করবেন। ন্যস্ত ধনের ন্যায় আমি যুধিষ্ঠিরকে আপনাদের হস্তে দিচ্ছি, আপনাদের সকলকেও যুধিষ্ঠিরের হস্তে দিচ্ছি। আপনারা কখনও আমার প্রতি ক্রুদ্ধ হন নি, এখন আমি ও গান্ধারী কৃতাঞ্জলি হয়ে প্রার্থনা করছি — আমার অস্থিরমতি লোভী স্বেচ্ছাচারী পুত্রদের অপরাধ ক্ষমা করুন।
ধৃতরাষ্ট্রের অনুনয় শুনে নগরবাসী ও গ্রামবাসী প্রজাবৃন্দ বাষ্পাকুল নয়নে পরস্পরের দিকে চাইতে লাগলেন এবং দুঃখে অচেতনপ্রায় হলেন। পরিশেষে শাম্ব নামে এক বাগ্মী ব্রাহ্মণ ধৃতরাষ্ট্রকে বললেন, মহারাজ, প্রজাদের প্রতিনিধিরূপে আমি আপনাকে বলছি — আপনার কথা যথার্থ, আপনি ও আমরা পরস্পরের সুহৃৎ। আপনি ও আপনার পূর্বপুরুষগণ পিতা ও ভ্রাতার ন্যায় আমাদের পালন করেছেন, রাজা দুর্যোধনও আমাদের প্রতি কোনও দুর্ব্যবহার করেন নি। আমরা তাঁকে পিতার ন্যায় বিশ্বাস করে সুখে ছিলাম তা আপনি জানেন। এখন কুন্তীপুত্ৰ যুধিষ্ঠির সহস্র বৎসর আমাদের পালন করুন। আমরা অনুনয় করছি, জ্ঞাতিবধের জন্য আর দুর্যোধনকে দোষ দেবেন না। কুরুকুলনাশের জন্য আপনি দুর্যোধন কর্ণ বা শকুনি দায়ী নন, দৈবই এর কারণ। মহারাজ, আমরা অনুমতি দিচ্ছি, আপনি বনে গিয়ে পুণ্যকর্ম করুন, আপনার পুত্রগণও স্বর্গলোক লাভ করুন, যুধিষ্ঠির হতে আপনি যে মানসিক দুঃখ পেয়েছেন তা অপনীত হোক। পুরুষশ্রেষ্ঠ, আপনাকে নমস্কার।
ব্রাহ্মণের কথা শুনে সকলে সাধু সাধু বললেন, ধৃতরাষ্ট্রও প্রীত হলেন। প্রজারা অভিবাদন করে ধীরে ধীরে চলে গেল, ধৃতরাষ্ট্র গান্ধারীর সঙ্গে নিজ ভবনে গেলেন।