আশ্রমবাসিকপর্ব: ৫। ধৃতরাষ্ট্র-সকাশে নারদাদি

বহু দূর গিয়ে ধৃতরাষ্ট্র ভাগীরথীতীরে উপস্থিত হলেন। সন্ধ্যাকালে সূর্যের আরাধনার পর বিদুর ও সঞ্জয় কুশশয্যা প্রস্তুত করে দিলেন; ধৃতরাষ্ট্র এক শয্যায় এবং কুন্তীর সহিত গান্ধারী অন্য শয্যায় রাত্রিযাপন করলেন। প্রাতঃকালে যথাবিধি আহ্নিক ও হোমের পর তাঁরা উত্তর দিকে যাত্রা করলেন এবং কুরুক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে রাজর্ষি শতযূপকে দেখতে পেলেন। ইনি কেকয় দেশের রাজা ছিলেন, বৃদ্ধাবস্থায় জ্যেষ্ঠপুত্রকে রাজ্য দিয়ে বনবাসী হয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ধৃতরাষ্ট্র ব্যাসের আশ্রমে গিয়ে দীক্ষা নিলেন এবং জটা অজিন ও বল্কল ধারণ ক'রে শতযূপের আশ্রমে বিদুর সঞ্জয় গান্ধারী ও কুন্তীর সহিত কঠোর তপস্যায় নিরত হলেন।

একদিন নারদ পর্বত ব্যাস প্রভৃতি ধৃতরাষ্ট্রকে দেখতে এলেন। কথাপ্রসঙ্গে নারদ বললেন, শতযূপের পিতামহ সহস্রচিত্য তপস্যার ফলে ইন্দ্রলোক লাভ করেছেন। আরও অনেক রাজা এই বনে তপঃসিদ্ধ হয়ে স্বর্গে গেছেন। ধৃতরাষ্ট্র, আপনিও ব্যাসের অনুগ্রহে গান্ধারীর সহিত উত্তম গতি লাভ করবেন। রাজা পাণ্ডু ইন্দ্রলোকে বাস ক’রে নিত্য আপনাকে স্মরণ করেন; আমরা দিবানেত্রে দেখছি, সৎকর্মের ফলে কুন্তীও তাঁর কাছে যাবেন। বিদুর যুধিষ্ঠিরে প্রবেশ করবেন, সঞ্জয় স্বর্গে যাবেন।

রাজর্ষি শতযূপ বললেন, দেবর্ষি, ধৃতরাষ্ট্র কোন্ লোকে যাবেন তা তো আপনি বললেন না। নারদ বললেন, আমি ইন্দ্রের কাছে শুনেছি রাজা ধৃতরাষ্ট্র আর তিন বৎসর জীবিত থাকবেন, তার পর গান্ধারীর সহিত দিব্য বিমানে কুবেরভবনে গিয়ে ইচ্ছানুসারে দেব গন্ধর্ব ও রাক্ষসলোকে বিচরণ করবেন। ধৃতরাষ্ট্রকে এইরূপে আশ্বাসিত ক’রে নারদাদি প্রস্থান করলেন।